Home কবিতা সালেহীন শিপ্রা > জন্ম >> দীর্ঘকবিতা
0

সালেহীন শিপ্রা > জন্ম >> দীর্ঘকবিতা

প্রকাশঃ September 28, 2017

সালেহীন শিপ্রা > জন্ম >> দীর্ঘকবিতা
0
0

সালেহীন শিপ্রা > জন্ম >> দীর্ঘকবিতা

অনুচ্চারিত থাক

এ অন্তস্থ ক্রোধ,

উড়ুক ফানুস আর থই থই কুকথাসমূহ

শুধু বসন্তরাত যদি

গল্প শোনায় কোনো

                               মায়াহরিণীর,

                   ঘ্রাণ নিও না বাতাসে৷

 

যে এসেছে মিথ্যে না স্তুতির ঝুড়ি নিয়ে,

বক্রকথার সুর নিয়ে,

তাকে বলো –

                            ”অামাকে বলার আগে, ভাবো৷

এ ঠেসকথার দেয়ালে আছড়ে পড়া

পোষা যাতনার ভ্রুভঙ্গি, বরফদৃষ্টি তুমি নিতে পারতে তো?

ভ্রুণবাহী থলের কি ভার! জানি, বয়ে নিতে পারবে না,

                                       যতই শক্তি ধরে

রাখো৷

 

নারীর অধিক সেই মানবিক মানুষ, খুব

দূরের হয়েও ঠিক ততোধিক কাছের মুখ

পাথর যদিও তার মাখনের মতই শাঁস

হাসির ভেতর যার বেদনার গোপন লাশ,

 

তার ঘুমন্ত মুখ থেকে

বলিরেখা মুছে দেবে ভেবে যদি বসে থাকো, জেনো,

প্রথম রেখাটি প্রথম সে ঋতুস্রাব

                প্রথম প্রেমের মত গাঢ় তার ব্যথা৷

কথা ফুরোবার আগে

কারো আলগোছে সরে যাওয়া মনোযোগ

ঘৃণা করে করেও তাকেই ভালবেসে থাকা,

                                         আরেক রেখার

নাম৷

 

শিখে নাও চুম্বনরীতি বরং – যা দিয়ে

অসুখ সারানো যায়, যুদ্ধজাহাজ কেনা যায়না৷ যেভাবে শস্যের দীক্ষা দিয়েছি আর

ছিনিয়ে নিয়েছো শেষে শিকারী মানব৷

 

স্তনের ক্ষরণ থেকে

কামার্ত হায়েনার ঠোঁটের দূরত্বকে মেপে

                                  কোনো লাভ নেই৷

সে ঠোঁটেও শব্দই ঝরে, ঝরে নাম –

ঈর্ষার দিকে টেনে নিয়ে যায় যে ছটফটে সাদা খরগোশ

ডাকিনী সে৷

প্রেমের বাতাসে উড়তে শেখানো প্রজাপতি

অভিশপ্ত হাওয়া৷

সহ্য করার বিনিময়ে দেবী নাম, সর্বংসহা৷

 

উষ্ণতা বাড়ার আগেও

জগৎকে সর্বংসহা বলে জানতাম৷

দেখতাম,

লাউডগা সাপের বিষন্ন চোখ দেখে

সম্মোহিত প্রজাপতি ছুঁয়ে আছে ডাল৷

ওদিকে সামান্য হাওয়া, মৃদু খুব

নড়ে তবু সরে গেল পাতার আড়াল৷

ভাবতাম,

যতিহীন বাতাসেই যদি বসবাস

কি হবে হাওয়ার সাথে যুদ্ধ ঘোষণায়!

অথচ জগৎ জানে,

বংশীবয়ান মন লুকানো যে বলিরেখা- ক্ষতে

তা মোছা সহজ নয়, অসাধ্য৷

”জগৎ তো মায়াময়, মায়ার আধার” বলে

অলীক সুখের দেশে টেনে নেয়া যেন,

যেন হাত নেই তবু ভাবছো প্রিয় সেই ক্ষণ :

                     আঙুলের দৈর্ঘ্য ডুবে যাচ্ছে চুলে৷

 

ভুলে জগৎমাতার মুখে জননীর মুখ দেখে ফেলি৷

যে প্রসন্ন মুখ পৃথিবীর শান্ততম দিঘি

তার স্তনে ঠোঁট রেখে ভুলে যাই

পিতার প্রেমিকা সে-ই৷

নিভু নিভু আলোয় কামনা করে প্রেমিক-শরীর,

জিভের উত্তাপ৷

 

কানের শত্রু নয় চোখ

পায়ের শত্রু নয় হাত

উচ্ছ্বল ফুল্ল দিন  হোক

পালাক তুচ্ছ সংঘাত৷

বিভেদবিন্দু ধরে  হেঁটে গেছে পাথর চোখের রেখা

বরং তাকেই মুছে দেই

শুষে নেই অশ্রুভুক সে পতঙ্গটির মতো,

পাখি ঘুমোলেই পালকের তল থেকে

বেরিয়ে যে শুষে নেয় পাখির চোখের জল৷

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close