Home কবিতা সায়মা হাবীব >> কবিতাগুচ্ছ

সায়মা হাবীব >> কবিতাগুচ্ছ

প্রকাশঃ April 19, 2018

সায়মা হাবীব >> কবিতাগুচ্ছ
0
0

সায়মা হাবীব >> কবিতাগুচ্ছ

 

যেন চা খাব ভাবি কিন্তু খাওয়া হয় না

 

যেন চা খাব ভাবি কিন্তু খাওয়া হয় না

কোনো সুতাই নড়ে না ইচ্ছায়

অন্য রুটের চাঁদগুলি এই রুটে আলো দিচ্ছে

দু’হাতে নিজেকে সরিয়ে নেমে যায় স্বয়ং স্রোত

অর্থ তোল ছায়া, নিরর্থকেও তোল

সশঙ্ক থেমে আছে মনুষ্যের অতীত

নেপথ্য চিৎকার কাদের মর্মে বাজছে : আগুন কমাও

আগুন কমাও

 

 

স্বয়ম্ভু

শববাহী শকটের ভারে কালভার্ট ভেঙে পড়লে
চুরমার হলো খাটিয়া, আর গমনপর মরদেহ
কাঁপিয়ে দিল সড়কের শির ও দাঁড়া

 

ব্রেক ইভেন

যখন হারজিত নাই তখন আমরা থাকি সর্বতঃ ঠিক অবস্থানে

 

উড্ডয়ন

যেকোনো-একটা পাখি একটা নির্দিষ্ট দিকে উড়তে থাকায়, তৈরি হলো তার নিজস্ব গতিপথ

 

সংহার

প্রতি লব্জ লেখার আগে ছিঁড়ে পড়ছে হাত,
কেউ ছিন্নহাতে আঙুল জুড়ে বুলিয়ে দিচ্ছে
ধূমল-জ্যোতি। যে-বৃক্ক নাই তারও জায়গা খালি আছে,
যে-পাঁজরা নাই তা-ও দখলে রেখেছে নিজ তীব্রস্থান—
আমার নির্গন্তব্য গতি, ঊর্ণাময় হাড়,
গলা ধরে উঠিয়ে কে ডুবিয়ে মারে ফের কাদায়।
একটা তুষারমৌলি নাক— জমিয়ে রেখেছে একটু ঘ্রাণ,
আমার চর্মচূর্ণ ডুবে যাচ্ছে তুণ্ডপাতালে—

 

আবেশন

প্রতিপক্ষ ভেবে যে কলিগুলি ছিঁড়ে ফেলি, তারা সব
ফুল হয়ে আসে। কিছুতে মস্তিষ্ক আচ্ছন্ন,
মস্তিষ্ক কিছুতে আচ্ছন্ন। ইমারতজুড়ে নড়বড়ে ইটগুলি
নৃত্যপর, স্ফীতোদর বিন্দুগণ উত্তল এগোতে থাকলে
টলে যায় রেখার অন্বয়

এরকম হয়।
খননের আগে যে-জমিন ছিল না তাতে
উপ্ত এই আপ্তসত্য দণ্ডায়মানতাকে নস্যাৎ করেও
স্থির দাঁড়িয়ে থাকে

 

কূলঙ্কষ

দরোজার পক্ষে ভেতরের দিকে নাকি বাইরের দিকে খোলা
যুক্তিযুক্ত এই বিতণ্ডায় ঘর ভাঙার পর যে গৃহের চলাচল
গোচরে আসে সেই সূত্রে মনে পড়ে পুরাতন প্রতিজ্ঞা।
নদীরা আর কবে সন্ন্যাসী হবে, সবিস্তার
ন্যস্ত হবে ধ্যানে, কলস্বন তারা
কবে আর দেবে বিসর্জন—
নিদালি গভীর হলে অস্তি খসে যায়, আর
দৃঢ় নাব্যতায় ভাসে ইস্পাতের কূল ও অকূল

 

ঈশ্বরকণা

.
একইরকম ভালবাসা জানে নাকি বিভিন্ন পাতারা—

.
কোথাও সাইরেন বাজছে; আর পক্ষীকুল আটকে আছে সিগনালে

.
ব্যবহৃত হতে হতে আগুন একদিন নিজেই শিখে নেয় ব্যবহার

.
সকল তৃষ্ণাই তোমার দিকে টানে

.
ভাঁজে ভাঁজে চিন্তার ক্ষত

.
এইটুকু শীতকাল নিয়ে আমরা কীভাবে বহুদূর যাব!

.
একটা অচল মুদ্রা কেবলই গড়িয়ে সামনে আসে

.
হাত ডুবে যায়, স্পর্শ শুধু জাগরূক থাকে

.
আত্মহত্যার মতো এক আপেল ঝুলে আছে দূরবর্তী ডালে

.
জল সরে, থাকে তা, যা জলের চেয়ে ভারি

.
খোয়া যাই, আকালের নথ

.
তিনটি একইরকম পাতা ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করছে

.
সেই পাখি ঘরে আসে যে-পাখির উড়ন-স্বভাব!

.
যতদূর স্নেহ ততদূর প্রত্যাবর্তন

.
যেখানে উড়ছে বলে মনে হচ্ছে, আসলে উড়ছে তারও দূরে

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close