Home ঈদ সংখ্যা ২০১৭ সেই সব পেণ্ডুলাম > স্মৃতিচারণা >> শামীম আজাদ

সেই সব পেণ্ডুলাম > স্মৃতিচারণা >> শামীম আজাদ

প্রকাশঃ June 25, 2017

সেই সব পেণ্ডুলাম > স্মৃতিচারণা >> শামীম আজাদ
0
0

সেই সব পেণ্ডুলাম

আমার ৬ ঘন্টা ঘুমেই চলে যায়। আগে প্রথম রাতে জাগতাম। এখন শেষরাতে জাগি। উঠে চা করি, ল্যাপটপ নিয়ে বসি। শুরুতে ফেইসবুকে যাই। ব্যায়ামের আগে যেমন ওয়ার্মিংআপ! তারপর কাজের ইমেলের উত্তর দিই। তারপর লিখতে বা লেখা এডিট করতে বসি। বাইরে সুমসাম বাতাস বা ঝিরঝিরে তুষার বা শীতের সূঁই চলতে থাকুক আর নাই থাকুক।

কয়েক বছর আগে একরাতে লেখার জন্য জেগে উঠে দেখি ব্লাইন্ডের ফাঁক দিয়ে আলোর চাপাতির মত ধারালো একফালি আলো এসে পড়েছে। সে আলো চাঁদের না পথের লাইটপোস্টের জানিনা। বিছানা ছেড়ে উঠতে গিয়ে চমকে উঠলাম। বাথরুমে গিয়ে গামছা ভিজিয়ে মুখ মুছলাম। বিছানায় ফেরার পথে সব সময় সাদা ড্রয়ারটপে হাত পড়ে। দেখি ওপরটা এলোমেলো হয়ে আছে। রাতে এসব গুছানোর কথা না। কিন্তু আমিতো এমনই। হঠাৎ নিচ থেকে বেড়িয়ে এল আব্বার ঘড়ির নীলচে বাক্সটা। আমার বাবার ঘড়িটা! পাশেই সেই চাপাতি।

বছর কেটে কেটে কেটে আমি এখন বিলেত বাসী। ঘড়িটা কখনো বের করিনি। কি এক আশংকায়। জানিনা বাবার কোন মুখ, কোন ভাব, কোন স্মৃতি মনে আসবে। সে জলছাপ তাঁর টেনিস খেলে শর্টস পরে ঘরেফেরা নাকি সিএমএইচে রোগশয্যায় আম্মার হাতে সেবাগ্রহণ রত মলিন। মানুষ চলে গেলে কেন শুধু তার শেষের ছবি স্থির হয়ে থাকে। কোথায় যায় তাদের সেই দুর্দান্ত অশ্বরোহণকালীন মুখ! আমিতো কষ্টাক্রান্ত মুখায়বব মনে করতে চাই না।

বাক্সটা খুলে হাতে তুলে দেখি ৫টায় কাটা স্থির হয়ে আছে। আহারে আমার বাংলাদেশের সেই সময়। সেই ওমেঘা ঘড়ি! কালো বেল্টে এখনো আমার বাবার কব্জির দাগের মাপ। প্যাসেজের অন্ধকারেই প্রবল মমতায় বাঁহাতে সেই ঘড়িটা পরলাম। দেখি একটু ঢুল ঢুল করে। বালার মত। তারপর নিজের অন্য হাতটি দিয়ে সে হাতটিকে আদর করতে থাকলাম। কাঁদতে কাঁদতে বিছানায় ফিরে এলাম।
আমার বাবা আবু আহমদ মাহমুদ তরফদার। তাঁর স্বাভাবিক প্রয়াণ হয়েছে ঊনষাট বছর বয়সে সেই সাঁতাত্তর সালের নয় ডিসেম্বরে! এখন আমিই বাবার চলে যাবার বয়সের চেয়েও বয়সে অনেক বড়। কিন্তু আশ্চর্য ডিসেম্বর এলেই আমি এক শিশু হয়ে যাই। ডিসেম্বর আমার হাহাকারের মাস। আমি কাঁদি উচ্চস্বরে। একাত্তরের পর থেকে তাই হয়েছে। নিজ পিতার পরিধি ছাড়িয়ে আমার প্রয়াত পিতাতুল্য শিক্ষকদের কথা মনে হয়। একাত্তরের চৌদ্দ ডিসেম্বরের কথা মনে হয়। একাত্তর সালে আমার বাবা জীবিত ছিলেন। কিন্তু তখন আমার স্যারদের হত্যা করা হয়েছে। আর তাদের কারোই স্বাভাবিক মৃত্যু হয় নাই। তাদের দেহের অবশেষ ও রাখেনি বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী খুনিরা। এখনো কানের মধ্যে বাজতে থাকে একাত্তর ডিসেম্বরে  শোনা রায়ের বাজার ঘুরে আসা অনুজপ্রতিম কিশোর মুক্তিযোদ্ধা বুলবুলের চিৎকার। তার হাহাকার এতবছর পরেও আমার এই ঘরে আবারো এসে দাঁড়ায়। আমি সেই ভয়াবহ বধ্যভূমিতে জেগে উঠি। দেখি সেই চাপাতি ও ছুরির কোপে চোখ তোলা, আঙুল কাটা, পেছনে হাত বাঁধা আমার স্যারদের মৃতদেহ। আমার নিরিহ বাবার মতই তারাও গেঞ্জি পরতেন, ঘরে লুঙ্গি পরতেন। তাদের সেইসব ঘরের জামা বেয়োনেটের খোঁচায় খোঁচায় ফাঁড়া। আহারে যাদের কেউ কোনদিন অশ্রদ্ধা করে জোরেও কথা বলেনি। যারা জীবনে কোনদিন অস্ত্রের মুখ দেখেননি। তাদেরই তীক্ষ্ণ ধারলো অস্ত্রে কি কষ্ট দিয়ে দিয়ে কেটেছে! মাটিতে পড়েছিলো দেশের সূর্যসন্তানদের দলিত লাঞ্ছিত মৃতদেহ। দেশের সবচেয়ে সম্মানীত সন্তান তাদের একি হাল! আমৃত্যু এইসব মহাপ্রাণের প্রতি একি সাংঘাতিক অপমান অন্যায়! চারিদিকে থান থান খয়েরী ইট আর জল। সে জল ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ, এর রক্ত ও ক্রন্দন।

মানুষ চলে গেলে তার পালক রেখে যায়। জ্ঞাতিচিহ্ন দেখে দেখে পরশ বুলায়। কাঁদে। আমি মাঝে মাঝে আমার মায়ের শাড়ি ও ধানছড়া সোনার হার ছুঁয়ে দেখি। শাড়ি হাতে নিলে ঘ্রাণ নিই। এখন ঘ্রাণ নাকে আর পাই না, পাই মনে। সে গোলাপের মত ম ম করে। সে সময়ে আমাদের বাবারা কোন গয়না পরতেন না। বাবাদের কোন সোনার গয়না থাকে না। আব্বার একটা ঘোলা চোখের মত আকিক পাথরের রূপোর আংটি ছিল। তাদের কোন মোবাইল ছিলনা যে সময় দেখবেন। আমাদের বাবারা মনিবন্ধে ঘড়ি পরতেন।
আমার স্যার শহীদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর কব্জিতে ওরকমই একটা লালচে খয়েরী বেল্টের ঘড়ি ছিল। তিনি পরতেন ঘি-রঙা খদ্দর বা দেশী সুতির লম্বা পাঞ্জাবি। তার পাজামা শাদা আর ঘেরওলা। স্যু পরা দেখেছি কি! মনে পড়ে না। ছিল বেল্টঅলা স্যান্ডেল। চশমার ফ্রেম মোটেও পিটারের (স্যার বলতেন পিয়ের) মত ছিল না। ছিল ভারী আর মোটা। এই এখন যা আবার সিক্সটিজ বলে ফিরে এসেছে। তবে তার ভেতরে ছিল বিদ্ধ হবার মত দৃষ্টি। সে চোখ মাছের শীতল স্লিপারি কোরিডোর মেঘের মত ঢেকে দিতো। আবার বাংলা বিভাগ প্রধান, তাঁর কক্ষে তাঁর সামনে গেলে মনে হত সেই চোখজোড়াই সকালের সূর্যের মত আমার গায়ে রেণু গজাচ্ছে। আবার চোখ জোড়াই ক্লাশরুমে শরৎচন্দ্রের নির্বোধ শ্রীকান্ত, সেক্সপীয়রের ম্যাকবেথের একশব্দে দুই অর্থ করা প্রেতিনী, কিংবা টলস্টয়ের পয়মাল পিটারের চোখ হয়ে যেতো। অবাক হয়ে দেখতাম কি করে তিনি নানান প্রযত্নে নানান মানুষ হয়ে যান। একি অত্যাশ্চর্য ব্যাপার। শুধু তাই না- বিকালে সেমিনার রুমে রিহার্সেলে তিনি হয়ে যেতেন হাইকোর্টের বিচারক। উচ্চারণের অবহেলা তার কাছে অসহ্য ছিল। এনিয়ে সব শিক্ষকই সমান নির্মম ছিলেন। সন্ধ্যায় টিএসসিতে নাটক চলাকালে অন্ধকারে পেছনের সিটে বসা স্যার আমাদের একগুচ্ছ স্বেচ্ছাসেবকের কাছে হয়ে যেতেন বাৎসল্যে গলে যাওয়া বৈদূর্য্যমনি।

উনসত্তরে ভর্তি হয়ে দেখেছি স্যার সাইকেল চালিয়ে আমাদের ক্লাশ নিতে আসতেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন সাইকেল স্ট্যান্ড ছিল কি! স্যারের সাইকেলটি কলাভবনের দোতলার বাঙলা বিভাগের ঠিক নিচে একতলায় ক্লাশঘরগুলোর পাশের কোরিডোরের বাইরে দেয়ালে ঠেস দিয়ে তাঁর অপেক্ষা করতো। আমরা ব্যালকোনি থেকে ঝুঁকে ঐ হ্যান্ডেলের সামনে থাকা বেতের বাস্কেট ভরা বইগুলো সনাক্ত করার খেলা করতাম।

আমার স্যার মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী শান্তিনিকেতনে পড়ে এসেছিলেন। পড়াতেন রবীন্দ্রনাথের কবিতা। গল্প করতেন শান্তিনিকেতনের কথা। সেই একেকটি বাড়ির কবিতার মত নাম। ইন্দিরা গান্ধীও একজন সাধারণ মেয়ের মত খালিপায়ে একবাক্স কাপড় চোপড়ে দিক্ষা নিয়েছেন।ছাতিম তলার গাছের ছায়ায়। সঙ্গীতের মায়ায় নিজেকেও করে তুলেছিলেন তেমনি সাদাসিধে। পাজামা পাঞ্জাবি ও কালো ওয়েস্ট কোট। পায়ে বেল্ট দিয়ে আটকানো স্যান্ডেল। শুদ্ধ উচ্চারণে কবিতাপাঠ করতে না পারলেও, প্রশ্নের উত্তর সঠিক না দিলেও বকাটা দিতেন নরম করেই। আমরা বলতাম শান্তিনিকেতন তাঁর মাথায় একটি ফ্রিজ ধুকিয়ে দিয়েছে। সন্দেহ হয় স্যার জীবনে কাউকে হাল্কা চড় চাপড় ও দিয়েছেন কিনা।

তখন অসহযোগ আন্দোলন চলছে। পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে দানা বেঁধে উঠছে আমাদের সংগ্রামী মন। একদিন স্যার আমায় ডেকে নিয়ে আমাদের সোবানবাগের বাসার ঠিকানা লিখে নিলেন। একটু কৌতুকময় মৃদু হাস্যে বললেন, তোমার বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসবো। তারিখ ঠিক হলে আম্মা খয়েরী করে ঘিয়ে ভাজা সুজির হালুয়া করলেন। দোতলার ব্যালকোনি থেকে অপেক্ষায় ছিলাম। স্যার দেখি তার ছোট্ট গাড়িটি ফ্ল্যাটের সামনে পার্ক করে মনসুর মুসা স্যারসহ  বেরিয়ে আসছেন। আমিতো উত্তেজনায় বাঁচিনা। চা ও হালুয়া ট্রেতে উঠাতে উঠাতে কান পেতে অবাক হয়ে যাই। তাঁর প্রিয় ছাত্রীটির জন্য তখনকার সময়ের সবচেয়ে উজ্জ্বলতম দীপ, মেধাবী ও সর্বদা সত্যভাষী এক তরুণ শিক্ষকের জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন! আব্বাতো মহাগর্বিত। তাঁর কন্যার কারণে এমন সব নমস্য মানুষের আগমন ঘটেছে। ততক্ষণে আম্মাও সেখানে গেছেন। রান্নাঘরের কোণ থেকে তাদের হাস্য শুনে মনে হল যেন তাদের বন্ধুরা এসেছেন। স্যারের মনিবন্ধের ঘড়িটি গলাকার না চৌকো ছিলো? ধাতব ছিলো না। এসব রুচিবানরা একটু পরিহারই করতেন।

আমার স্যার আনোয়ার পাশা পড়াতেন রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ। স্যার অনেক দ্রুত কথকতায় কাদম্বিনী, চারুলতা, নরেশ, ভূপতি, রতন সবাইকে এনে ক্লাশরুমে দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারঙ্গম ছিলেন। স্যারের কথা মনে হলেই মনে হয় বুকের কাছে ধরা ছোটগল্পের মহামোটা এক ডিক্সোনারী মার্কা বই। যেন তার দেহের অংশ। যেন তাকে ছাড়েনি কখনো। ছাড়েনা কিছুতেই। হাঁটতেন ক্ষিপ্র পায়ে। কোরিডোর দিয়ে হেঁটে গেলে পিছু নিচ্ছি নেবো করলেই আর স্যারকে পাওয়া যায়না। স্যারের চোখে ঠিক আমার বাবার মত কালো মোটা ফ্রেইমের চশ্‌মা ছিলো। তাতে আয়তক্ষেত্রের আকার ছিলো।
আমার বাবা ব্রিটিশ আমলের যুদ্ধের সময়ের এ আর পি অফিসার ছিলেন। তাঁর বড়ই ইংরাজি প্রীতি ছিল। কুমুদিনী কলেজে পড়াকালে আমাকে ইংরাজিতে চিঠি লিখতেন। উত্তর দিলে সেটা কাটকাটি ও সম্পাদনাসহ নারায়ণগঞ্জ থেকে পরবর্তী চিঠিসহ তা ফেরত আসতো। কলেজ পাশ দিলে তিনি আমাকে ইংরাজিতে অর্নাস পড়াবেনই- কিন্তু আমি বাঙলায় পড়বোই। আম্মা ভাতের টেবিলে আমাদের সামলাতে চেষ্টা করেন। আমি পুঁই চিঙড়ি মাখা ভাত রেখে কেঁদে উঠে যাই। আব্বা পেছন থেকে বলতেই থাকেন, তো তোর পড়া বন্দ। আইজ তনে গরর কাম কর। ভাইয়া বুজান দুজনেই পড়ছে। তিনি কি করে আমার পড়া বন্ধ করবেন? খালি খালি ভয়, আমি জানিনা!
এদিকে ভর্তির গোনা দিনগুলো শেষ হতে থাকে। আমাদের বাসায় কোন ফোন নেই। বন্ধুরা কেউ জানেও না আমার এ হাল। ভাইবোন কেউ ভয়ে কিছু বলে না। শুধু সক্রিয় মিসেস আনোয়ারা তরফদার। আব্বা তখন দিল্লির এক পীর সাহেবের ভীষণ ভক্ত। আম্মাকে বলি, ও আম্মা তানরে দিয়া আব্বারে বুজাইল যায়নানি? এবার আম্মাও ক্ষেপে ওঠেন। পুচকে মেয়ের জন্য দিল্লির পীর ধরতে হবে? বললে কি হবে সিজ ফায়ারতো লাগে নাকি! ভর্তি-তারিখের শেষদিবসের আগে একটি তৃতীয় মাত্রা টাইপের টক শো’র আয়োজন করেন আম্মাই। তিনিই সঞ্চালক। কিন্তু যথারীতি তিনি ভূমিকাহীন হয়ে পড়েন।
আমি ঘাড় গোঁজ করে লাল মুখ নিয়ে ওদের ঘরে ঢুকে পালংকে পা ঝুলিয়ে বসতে না বসতেই আব্বা শুরু করে দিলেন। ইংরাজি ও বাংলাতে অর্নাস পড়ার তুলনামূলক জ্বালাময়ী বক্তৃতা। আমি তাকিয়ে আছি জানালা দিয়ে দূরের শেফালি গাছের দিকে। এবার তিনি হুংকার দিয়ে বল্লেন, বাংলাত তোর কিতা এমন মদু আছে?

সেদিন উত্তরে আমার বাবাকে যা বলেছিলাম তা হল- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়ান মুনীর চৌধুরী, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, নীলিমা ইব্রহীমের মতো বাংলা ভাষা-বিশারদ ও জীবন্ত কিংবদন্তিগণ। আর পি সাহা‘র কুমুদিনী কলেজ থেকে আমি যে বোর্ডে বাংলায় এত উচ্চ নম্বর পেলাম তার কি হবে? ঐ ইঙ্গিত ধরে বাংলা সাহিত্যে পড়লে হয়তো আমিও লেখক হতে পারি। আমি এই  এঁদের সঙ্গে বাংলা বিভাগের অনুষ্ঠান মঞ্চে উঠতে চাই। আর এঁদের কাছ থেকে শিক্ষা নেবার জন্য আমাকে তো বিদেশ, এমনকি ঢাকার বাইরেও যেতে হচ্ছে না। এই জ্ঞানতাপসদের এত অনায়াসে পেয়ে যাবো শুধু বাংলা বিভাগে ভর্তি হলেই। তিনিও তো তাদের লেখা পাগল হয়ে পড়েন আর বলেন, গরীব দেশে এখনো অনেক দামী মানুষ আছেন।
আশ্চর্য, এসব বলতে চোখ দিয়ে কোন জল পরলোনা। বরং আরো শক্ত হয়ে বসেছি। কথা শেষ হলে দেখি ভদ্রলোক একদম গলে মাখন! আমাকে কাছে টেনে নিয়ে আদর করে বল্লেন, ঠিক আছেরে ফুত। ইউ ওয়ান দ্যা ব্যাটেল।কিন্তু এক শর্তে। কি? সঙ্গে সাবসিডিয়ারী ইংরাজি রাখতে হবে। আর তাই-ই কিন্তু সিপি স্নো, বার্নাড শ, বায়রন, কিটস পড়তে গিয়ে পেয়ে যাই আরো মনিমানিক্য- রাশিদুল হাসান, রাজিয়া আমিন, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মোনেম স্যারসহ সন্তের মত, বাবার মত, মায়ের মত শিক্ষাগুরুদেবদের।
যে সব সোনার মানুষদের মূল্যে দেশ পেয়েছি তখন তাদের কাছে পেয়েও এমন করে দেখেছিলাম বলে মনে হয় না। অথবা যখন দেখেছি তখন দেখার চোখ গজায়নি। আজ যখন গজিয়েছে তখন এ বার্তা তাঁর কাছে পৌঁছাবার কোন উপায় নেই। ততক্ষণে কান্না শুকিয়ে গেছে। টেবিল লাইট জ্বালাতেই সেই মানুষ কোপানোর চাপাতি লাফিয়ে মিলিয়ে গেল। আমার হাতে আমার বাবার সেই অচল স্তব্ধ হয়ে যাওয়া ঘড়ি। আমি তাই মুঠোবন্দী করে কুঁকড়ে বিছানায় পড়ে কুকুরের মতো কুঁই কুঁই করে কাঁদতে থাকি। আমার দেহঘড়ির সেই পেন্ডুলাম পাগলের মত দুলতে থাকে। দুলতেই থাকে। দুলতেই থাকে..।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close