Home কবিতা সেলিম মণ্ডল > সাতটি কবিতা >> জন্মদিনে কবিতাগুচ্ছ

সেলিম মণ্ডল > সাতটি কবিতা >> জন্মদিনে কবিতাগুচ্ছ

প্রকাশঃ June 7, 2018

সেলিম মণ্ডল > সাতটি কবিতা >> জন্মদিনে কবিতাগুচ্ছ
0
0

সেলিম মণ্ডল > সাতটি কবিতা >> জন্মদিনে কবিতাগুচ্ছ

 

 

শয়তান

 

বাবার ইচ্ছে একবার আরবে যাবার
হজ করবে
শত্রুকে ঢিল ছুঁড়ে মারবে

বাবার অল্পসঞ্চয় আছে
একবার আরব যেতেই পারে
কিন্তু ঘরে আছে কবিপুত্র
সঞ্চয় ফুরালে চরম দুর্ভিক্ষ নেমে আসতে পারে সংসারে

সবই বুঝতে পারি
শুধু, মুখ ফুটে বাবাকে বলতে পারি না—
এই নাও পাথর
শয়তান তোমার সামনে দাঁড়িয়ে
মারো, জোরসে মারো

 

খেলা

নিজেকে নিয়ে তিনবার টস করে বুঝলাম
জেতাটা আমার জন্য নয়
কিন্তু এই যে আমি হেরে যাওয়ার বিরুদ্ধে লড়ছি
প্রবল সম্ভাবনার ভিতর নিজেকে শেখাচ্ছি ক্রমাগত অঙ্ক
এর কি কোনো ফলাফল নেই?

নিজেকে নিয়ে খেলতে খেলতে নিজের ভিতর যে মাঠ
সেখানে পায়ের ছাপ আছে, গোল আছে, শূন্য আছে
কোনো গোলপোস্ট নেই

একটা ফুটবলের মতো পৃথিবী একা একা খালি হাসছে

 

 

সৌরকেলেঙ্কারি

 
মা আমাকে রোজ চাঁদ রান্না করে খাওয়ায়
আর আমি ঘনঘন জোৎস্নাঢেকুর তুলি

একদিন মা চাঁদের পরিবর্তে সূর্য রেঁধে খাওয়াল
নিভে গেল সমস্ত আলো
তবুও আকাশবাটিতে চিবোতে লাগলাম সূর্য
দাঁতের বিরাট ফাঁকে দাউদাউ করে উঠছে গ্রহণ

মা ফুঁ দিচ্ছে, মা তরকারি জোগাড় করছে

দূর থেকে ঘোষণা হচ্ছে—

সৌরকেলেঙ্কারি

সৌরকেলেঙ্কারি

 

মুনাইয়ের জন্য

মুনাইয়ের জন্য নদী ও মাছ অর্ডার করেছি। কিন্তু ক্যান্সেল করতে হবে। ওঁর পাহাড় চাই। পাহাড়ের কাছাকাছি আকাশ থাকে। আকাশের কাছাকাছি থাকে চাঁদ। তারা। সূর্য।
ওকে একটা নৌকাও দেব বলেছিলাম। যদিও মুনাই সাঁতার জানে।
এখন পাহাড় খুঁজতে বেরিয়েছি। পিছনে নদী ও তাথই বর্ষা আমাকে ডাকছে। আমি কিচ্ছু শুনিনি। ছিপ হাতে নেওয়া মানুষটির সঙ্গে শুধু গল্প করেছি।


সারা কলকাতা ঘুরে ভেড়ার মাংস পেলাম না। মুনাই ভেড়ার মাংসই খাবে। এই অদ্ভুত বায়না কেউ করে বসলে নিজেকে হিরো হিরো লাগে। যদিও নায়িকা সংবাদে আমি বরাবর খলনায়ক।
যাই হোক, মুনাইকে অনেক বুঝিয়ে দেশি মুরগির মাংস খাওয়ালাম। খেল, কিন্তু বমি করে দিল। ‘ৎ’-এর মতো মুখ-করা মালিক বিরক্তিও নিয়ে বলল : পরিস্কার করে দিয়ে যাবেন।
এরপর মুনাইকে নিয়ে গেলাম ময়দান। বিকালের লাল রং মেখে বেড়ানো ভেড়াগুলোকে দেখে বলল : আমি মাংস খেতে চাই না। মাংস খেতে চাই না…

মুনাই সাদা হাঁস পুষবে। আমি বললাম, মুরগি পোষ। ওঁ হাস-ই পুষবে। পাড়া ঘুরে ঘুরে কিনে আনলাম দুটো হাঁস আর কিছু ডিম। ডিম ফুটল। সাদা ফুটফুটে বাচ্চা হল।
দেখতে দেখতে বাচ্চাগুলো বড়ো হয়ে গেল। আমার কী আনন্দ হাঁসের মাংস খাব। মুনাই পিঠে বানাবে। কিন্তু না আমার হাঁস খাওয়া হল না।
এই শোকে একদিন পুকুরপাড়ে বসলাম। দেখলাম হাঁস তার ডানা দিয়ে জল ঝাড়ছে। তখন দুপুরের চরম রোদ। আমি আর পরে মাংসের কথা বলিনি। হাঁসের ডানা থেকে মুনাইবাতাস ক্রমশ প্রবেশ করছিল আমার ভিতর।


মুনাই, দু-কাপ দুধ-চা আর তিনটে টোস্ট বিস্কুট খাবে। ঘরে চা-পাতা আছে, চিনি আছে কিন্তু দুধ নেই। আবার টোস্ট বিস্কুট আছে মাত্র দুটো।
কোনো উপায় নেই। ওর আবদার রাখতেই হবে। আমি পকেটভর্তি খুচরো নিয়ে দোকানে গেলাম। দোকানদার ফিরিয়ে দিল। আমার কাছে নোট নেই। দোকানদারের কাছে বাক্সভর্তি খুচরো।
মুনাইকে এসে যখন বললাম, ও লিকার চা আর টোস্ট বিস্কুটই খেল।

 

মিথ্যা মিথ্যা জীবন

 

আমরা দুঃখ-কষ্টের মুখোমুখি হতে চাই না বলে
প্রাচীন কোনো আপেলবাগানে ঘুমিয়ে পড়ি

স্বপ্নে নিউটন আসে
বুকের হাত বুলিয়ে বলে : মধ্যাকর্ষণ বল কই?

স্বপ্ন ভাঙে
ঘুম ভাঙে না

নিজেকে রাজা করে তোলা এমন অনেক দিনে
বুকে বাড়ি মেরে খাজনা তুলি
দু-হাত ভর্তি থুতু, রক্ত, পুঁজ

টু

টু

করে জ্যান্ত দুঃখ-কষ্টকে কবর দেয়

ওরা জানতেই পারে না– কতটা গভীরে তাদের নশ্বর দেহ
আলোকিত করছে মিথ্যা মিথ্যা জীবনকে

 

খনন

নিজের ভিতর গর্ত খুঁড়ে বুঝেছি
একটুও জল নেই

পিপাসা আসলে পথিকের গলা ফাটানো আত্মচিৎকার

কোনো গান নেই
সুড়ঙ্গ নেই
শুধুই খনন, শিল্পের মতো

 

ডাইরি

একই ডাইরিতে লিখি আমি আর বাবা
বাবা প্রথমদিক থেকে লেখে সংসারের হিসেব
আমি উলটোদিক থেকে লিখি কবিতা
খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায় পাতা
কিন্তু কিছুতেই আসতে চায় না নতুন বছর

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close