Home কবিতা সৈয়দ ওয়ালী >> কবিতাগুচ্ছ

সৈয়দ ওয়ালী >> কবিতাগুচ্ছ

প্রকাশঃ May 26, 2018

সৈয়দ ওয়ালী >> কবিতাগুচ্ছ
0
0

সৈয়দ ওয়ালী >> কবিতাগুচ্ছ

 

 

হয়ে উঠবার গল্প

 
বেশ কিছু অদ্ভুতুড়ে অভিজ্ঞতা অর্জিত হবার পর
আপনি টের পাবেন,যা খুঁজছিলেন তা কারো ভাঁড়েই খুব বেশি নেই;
আপনি হতাশ হবেন,আপনি অবাক হবেন
এবং শিখে যাবেন,কি করে অমূল্য আয়ুর যথার্থ মূল্য দিতে হয়।
অচিরেই ঝরে যাবে অকবির দল আপনার পাঠ্য তালিকা থেকে।
আপনি নির্বাচনপটু পাঠক হয়ে উঠবেন।
কালক্রমে আপনার দু-চোখের মাঝখানে তৃতীয় চোখের জন্ম হবে।
আপনি ক্রমশ হারাতে থাকবেন রম্যময় ভ্রমণের অতুল সোয়াদ।
আপনি রসিক থেকে রূপান্তরিত হতে হতে হয়ে উঠবেন খুঁতখুঁতে দর্পী।
শাপ-স্বরূপ আপনি স্বর্গ থেকে নিক্ষিপ্ত হবেন নরকে এবং
ধীরে ধীরে হয়ে উঠবেন একজন ছিদ্রান্বেষী,…পুরাদস্তুর..।

 

 

রমণসারথি

 

 

যদি শৈশবে কৈশোরে
শুনে থাকে
পেয়ে থাকে
কেউ তার ডাক
না পেয়েও সাক্ষাৎ,চারপাশ আতিপাতি খোঁজে
ভুতে পাওয়া অশ্বের মতো
যদি কেউ যৌবনে দিশাহীন ছোটে
যদি তারপরও সেই সে
তাল ঠুকে
সুর সাধে
চেতনে চেতনে
অহর্নিশ গায় গান
প্রমোদ ও বিষাদের
যদি তারপরও করে সে
রূপময় গহনের নিয়ত বেসাতি
ভেঙ্গে ঘর
ছেড়ে ধর
ডুবে গিয়ে বিস্ময়ে
মেনে নেয় বেদের নিয়তি
যদি তারও পরে থাকে বুঁদ
অজর বিভাব আর অধরা পিরিতে,হায় চালশের পরে
রসিকেরা বলে তারে,আহা সে যে কবি গো,আমাদের রমণসারথি!

 

 

ঝোঁকটা

 

 

এমনিতেও ওইসব অজ্ঞেয় লোভন সিঁড়ি কেন যেন টানেনি আমাকে,
বউ-কথিত-ব্যর্থতা, লোক-কথিত-খাস কিছু হতে না পারার হয়তো,
এটিও একটি মুখ্য হেতু; শেলফের বইগুলোই হয়তো হল্লার মূল,
আদিম হোতা; মাথা নিয়ে সমস্যায় পড়েছি এমন কোনও স্মৃতি নেই,
শালার রুচিই বাধিয়েছে নটখট বরাবর;
ঝোঁকটা খুঁতিকে ঘিরে কেন যে গড়ে ওঠেনি, কেন যে বুর্জোয়া বিলাসের জেল্লা
মুগ্ধ করেনি, মধ্য বয়সের এসব প্রশ্নও গুরুত্ব ছড়াচ্ছে আজ হোঁচটে হোঁচটে;
তবে কি আগে থেকেই
সবকিছু
ভেবে রেখেছে, গড়ে রেখেছে কেউ?

ঝোঁকটা কোথায় ছিল তবে এতকাল,
জলের কাছে ধুলোর কাছে কে যেন প্রশ্ন করে আজকাল এই নিয়ে খুব…।

 

 

ডুমুর–প্রসূন

 

 

ওই সেই পুরাতন ডাক
ডেকে নিয়ে আবার দেখাল
তিনি বললেন কুকুরের পেট, সইবে না

ঘৃত, দাঁত কেলিয়ে হাসল শুধু
শকুনি কিছুই বলল না;
পিঠ ফেরাতেই শুনতে পেলেন
বিড়বিড় করে বলছে উরগ, ‘গাধার মগজে মানুষ সুরত, ডুমুর–প্রসূন’।

 

 

নিমজ্জন

 

 

তুমি না এলে জানাই হত না আমিও এক
ছিমছাম জংশন;
অথচ আমি রাস্তা হতে পাহাড়ে উঠছিলাম
হতে চাইছিলাম সানাই বৃষ্টির গোলাপি রঙের ছাতা

আরোগ্য আবাস আমার ভেতর তুমিই গড়েছিলে

তুমি না এলে বিলম্ব বিলাপ কখনই ডুবত না, গোধূলির ওষ্ঠহ্রদে।

 

 

থিয়েটার

 

 

সঙ্গম আসন্ন হলে
খুলে পড়ে সুবেশী আনন
প্রগাঢ় ঘুমের জলে গলে গেলে প্রবঞ্চক অভিরাম
ভেসে ওঠে ভবিতব্য, অনিবার্য কদাকার;

এই ছাড়াছাড়ি
বৈজ্ঞানিক,
প্রেম ও ভানের চিরায়ত দ্বান্দ্বিক থিয়েটার।

 

 

প্রসাধনপেটিকা

 

 
মুখোশটা খুলে রাখলেই
ভালো করতে,
অভিসারটা আকাশকে ছুঁতে পারত
কিংবা পৌঁছুতে পারত প্রাপ্তির আত্মায়;
আমিতো তোমার দখলেই থাকি
যতটা দখলে থাকে তোমার,প্রসাধনপেটিকা,
তবুও কেন যে আতংকে ভোগ!

নৌকো জলেই ভাসে
অথচ কুমিরের মত প্রাণীরা উভচর;পাহাড়ের বন্ধু
শুধুই যে মেঘ, এ তথ্য ঈগলের কাছে পিঁপড়ের কাছে,থাকে।
পথিকও পথে নামবেই, পাথর যেভাবে ধুলো হবে,হয়,জলের সঙ্গম আর শোকে।
জল ব্যাকরণ
না জেনেই জল ব্যাকরণ
কেন ভিজি,কেন করি নিরন্তর জলকেলি?

না জেনেই পূর্ব-পর
কেন এতো, সঙ্গে রাখি সুঁই-সুতো, পিরিতের নক্সা যোগে বুনি কাঁথা?
না জেনেই পূর্ব-পর
কেন এতো, কান্না গাঁথি হাস্যচ্ছলে,অজ্ঞাত অন্ধকারে ফুরিয়ে যেতে?

না জেনেই জল ব্যাকরণ
অবোধ মানুষ, কেনরে ভাসো এমন বেনোজলে…?

 

 

শৈলী বিষয়ক

 
আমিই বহুধর্মী শৈলী-জনক
আমিই বহুরূপী শৈলীবাদ
আমিই শৈলীর সাফল্য হে
আমিই শৈলী-ব্যর্থতা
আমিই শৈলী-ধৃতি হে
আমিই শৈলীর
প্রহেলিকা,
আমিই
শৈলী
শূন্য
হে,
প্রাত
আমিই
ফের,পুনর্দ্বন্দ্বে যথা
আমিই দ্বান্দ্বিক রূপ-গর্ভ হে
আমিই চরম,তীব্র,ধাবক জেরা
আমিই জেরার কূট,বহুমুখি তর্ক হে
আমিই তর্কের হেঁয়ালি উত্তর, ঋজুতার অলৌকিক হ্লাদ, নিলীনের নিষ্ক্রিয়তা।

 

 

কবি

 

 

১.
কোন এক অজ্ঞাত অভিমানে ফুরিয়ে আসে
হরিৎ উষ্ণতা,
সদৃশ কাঁধের
টান;
বিবিধ নিমিত্তে
জড়ো হওয়া মৌসুমি মাছির দল,ভ্রমের কাজল
লেপে চোখে,কেটে পড়ে;
তুমিতো সর্বদাই একা…!

২.
পেয়ারী নদীও এগিয়ে যায়,ত্যক্ত ভিটার ন্যায়
কবি,
পড়ে থাকে;
পকেটে পার্সে জমে ওঠে চালু সব
গৈরিক,সকলের;…শুধু যেন কবিই পেনিলেস হতে থাকে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close