Home ছোটগল্প হামীম কামরুল হক > মৃত মাধুরীর কণা >> ছোটগল্প

হামীম কামরুল হক > মৃত মাধুরীর কণা >> ছোটগল্প

প্রকাশঃ April 10, 2018

হামীম কামরুল হক > মৃত মাধুরীর কণা >> ছোটগল্প
0
0

হামীম কামরুল হক > মৃত মাধুরীর কণা >> ছোটগল্প

 

প্রেমের ভেতরে প্রেম, তার ভেতরে প্রেম। শরীরে ভেতরে শরীর তার ভেতরে শরীর। এভাবে অন্তহীন দুই বা ততোধিক আয়না মুখোমুখি। এক আয়নার ভেতরে শত শত অন্তহীন আয়না। একটি কায়ার শত শত, অন্তহীন প্রতিবিম্ব। … আমার এই মনটা তিতিই তৈরি করে দিয়েছে। তারপর ওই ঘটনার পর তিতির জন্য কতটা ভালোবাসা আর কতটা কৃতজ্ঞতা আমি আলাদা করে রেখেছি- এর কোনটা কম কোনটা বেশি নিশ্চিত করতে পারি না। কেবল টের পাই, সব কিছুর পরও কিছু একটা থেকে যায়, তলানিতে হলেও থেকে যায়। পরিমাণে তা একটা বিন্দু হলেও তার ক্ষমতা পারমাণবিক। সেখানে সব মানবিকতা হেরে যায়। আগের সব চূর্ণ হয়ে নতুন একটা শান্ততার জন্ম হয়।

 

ঘটনাটা কখনো কখনো হানা দিয়ে যায়। তখনও দীপ্তের জন্ম হয়নি। টোনাটুনির সংসার। ঘটনাটা ভেতরে ভেতরে প্রথম প্রথম মেনেই নিতে পারিনি। তিতি করেছে এটা? অবিশ্বাস্য! আচ্ছা ওর জায়গায় যদি আমি হতাম তো? আমি কী করতাম? দশটা বছর ধরে একটু একটু করে আমি এখন যা হয়েছি, তাতে আমিই আমাকে নিয়ে অবাক হই। এই দশটা বছর তিতির সঙ্গে দেখতে দেখতে পার হয়ে গেছে। পরে তো দীপ্ত হয়েছে। আরো একজন আসছে। আমি সেই আগের মতো অফিস-বাসা, বাসা-অফিস করছি। শ্যাওড়াপাড়া থেকে নয়া পল্টন। নয়া পল্টন থেকে শ্যাওড়াপাড়া। মাঝে মাঝে রাতের বেলা ফেরার সময় নিজেকে ভূতই মনে হয়। দেখা গেল, সেদিন তিতি ও দীপ্ত ঘুমিয়ে পড়ছে। আমার কাছে চাবি আছে। বাইরে থেকে দরজাটা খেলা যায়। বেশি রাতে ফিরলে, ঘুমাতে ঘুমাতে সেদিন আরো রাত হয়ে যায়। বারান্দায় বসে থাকি। মাথাটা কেমন ফাঁকা হয়ে থাকে। বায়িং হাউসের চাকরিতে চাপ কতটা, যারা করে জানে। এত চাপ নিলে পরে কোনো কিছু বা কারো কথা মাথায় আসে না। এত ক্লান্ত থাকি।

তিতি মানে তিতিক্ষা, মানে তৈয়বা খানম তিতিক্ষা, আবু তৈয়ব খানের মেয়েটা আমার সঙ্গে চলে না এলে রাজরানির মতোই থাকত। কত আর বয়স হবে তিতিক্ষার? আরেকটু হলে বাল্যবিয়ের মামলায় ফেঁসে যেতেও পারতাম। অবশ্য তিতিক্ষাকে এসব বললে, চাপা গলায় চেঁচিয়ে ওঠে, একদম বাজে কথা বলবা না। তারপর মধু ঢেলে দিয়ে বলে, আমার যা চাই। তাতো সবই পাচ্ছি তোমার কাছে। আমার আর কিছু চাই না। এখন দীপ্তটা মানুষ হলেই হলো। আমার আর কোনো কিছু চাইবার নাই। তিতির জন্য পল্টনের সিপিবির অফিসের সামনে থেকে সপ্তাহে এক দুদিন, বা যেদিন কোনো ভালো গল্প-উপন্যাস চোখে পড়ে নিয়ে যাই। বাসায় একটা কম্পিউটার দিতে চেয়েছিলাম। তিতি বলেছে দরকার নাই। আমি বলেছিলাম, আমার জন্য দরকার তো।

-না, তুমি কিন্তু আমাকে কথা দিয়েছিলে, বাসাকে অফিসে নিবা না, অফিসকে বাসায় আনবা না। কাজ শেষ করে তবে ফিরবা। রাত হলে হবে। কিন্তু বাসায় ফিরে অফিসের কাজ নৈব নৈব চ।

তিতি এই ‘নৈব নৈব চ’ কথাটা প্রায়ই বলে। আগে চিঠির শেষে লিখত ‘আলমিতি বিস্তারেন’। মানেটা ওর কাছ থেকেই আমি শিখেছিলাম। সপ্তাহে একদিন একটা রেস্তোরাঁয় যাই। নইলে কোথাও ঘুরে আসার তাল করি। আগে সেটাই ঘন ঘন করতাম। ঢাকা শহরে আমার বন্ধুবান্ধব তো কম ছিল না। তবে আমার সময় হলেও অন্যদের তত সময় নাই। আগে সপ্তাহে একদিন ছিল, পরে মাসে একদিন, একটু একটু করে সেটা তিনমাসে বা বছরে চলে গেছে। ঈদের ছুটিতে তিতি আর দীপ্ত আমাদের দেশের বাড়ি গেলে বাসায় বসে তিতিকে লেখা চিঠিগুলি পড়ি। আমাকে লেখা তিতির চিঠিগুলি পড়তে বুকের ভেতরে কেমন যে করে! মাঝে মাঝে সত্যিই মনে হয়, আশপাশের সব কিছু উবে গেছে। আমি আর তিতি ছাড়া, আর আমাদের নিবিড় গভীর স্পর্শ ছাড়া আর কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে ওর সাংবাদিক মামা নাম রেখেছিল তিতিক্ষা। এত্ত কঠিন নামটাকে সবাই তিতি-ই বানিয়ে ফেলেছিল। কী জন্য আমি তার প্রেমে পড়েছিলাম তিতি অনেকবার জানতে চেয়েছে। আমি কোনো দিন সত্যটা বলতে পারিনি। তিতির বাবা গ্রামের একেবারে সাধারণ তস্য সাধারণ গৃহস্থ। সামান্য একটু জমি আছে। বর্গা দেয়। আর ফ্রি প্রাইমারিতে পড়ায়। ভাইটা আমেরিকায় স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে গিয়েছিল। তারপর সেখানে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। এরপর পরই দুমদাম করে অবস্থা ফিরেছে ওদের। আমি মনে করেছিলাম, ওর ভাইই আমাদের বিয়েতে সবচেয়ে বেশি বাগড়া দেবে। অবশ্য খরবটা অনেক পরে পেয়েছিল। তখন আর তেমন কিছু করার ছিল না।

ছেলে হিসেবে আমি মোটেও সুনামের সঙ্গে বড় হইনি। বিচিত্র বদ অভ্যাস তৈরি হয়েছিল ছোটবেলা থেকেই। বদমাশ, খারাপ এবং নোংরা মানুষই বলা যায় আমাকে। তখনও আমাদের গ্রামের বিদ্যুৎ আসেনি। পড়তে যেতাম বোয়ালমারিতে। আমার থাকার মধ্যে আছে রাঙামূলা একটা চেহারা। টকটকে ফর্সা গায়ের রঙ। আর স্বাস্থ্য। অবশ্য যেটুকু বখে গিয়েছিলাম, তার জন্য আমি যতটা দায়ী তার চেয়ে বেশি যারা দায়ী তাদের কথা মনে পড়লে এখন তো ভয়ই লাগে। তখন কত সাহস আর অবলীলায় তাদের কাছে প্রেম শিখেছি। কারণে অকারণে তাদের কাছ থেকে টাকাও নিয়েছি অনেক। কেউ কেউ অবশ্য নিজে থেকে আমাকে টাকা দিত। এই জন্য বন্ধুদের মধ্যে রটেছিল, আমি নাকি ভাড়ায় প্রেম করি। পরে শহরে এসে একটা শব্দ শুনেছিলাম- জিগোলো।

তিতি আমার জীবনে আসার পর কী যে হয়ে যায়, আমি ঠিক বলতে পারি না। এটা কোনো গার্হস্থ্য প্রেমও নয়। আমি ঠিক ব্যাখ্যা করতে পারব না। তখনও তিতির তালাক হয়নি। তিতি তো এখনও প্রায়ই জানতে চায়, আচ্ছা কী জন্য আমাকে তোমার এত ভালো লেগেছিল। আমার মতো বদমাশ এই প্রশ্নের সহজ উত্তরটা কোনো দিন দিতে পারিনি। আশ্চর্য হয়ে যাই। নিজের কাছে নিজেকে আজব লাগে। কেবল তা-ই না, যে আমি এত সহজে এত নোংরা কথা আমি অবলীলায় বলতে পারতাম এখন কারো মুখে এতটুকু স্ল্যাং শুনলে আমারই কান লাল হয়ে ওঠে। যে আমি এত সহজে এত নোংরা জিনিস ভাবতে পারতাম সেই আমার ভুলে একটা বাজে দৃশ্যের কথা মনে তৈরি হয় না। যখন প্রেম ছিল তখনও এটা ছিল না। প্রেম এসে কিছুই শুদ্ধ করে দিয়ে যায়নি। প্রেমের চেয়ে শক্তিশালী জিনিস আছে। কী সেটা কী নাম দেব? তেমন কিছু আমার ভেতরে আছে বোধ হয়, নইলে সবকিছু এমন শান্তভাবে মেনে নিতে পেরেছিলাম কেন?

‘আকিম সাহেবের মুখে কেউ কোনো দিন একটা বাজে কথা শোনেনি।’- কোনো কোনো দিন এমন কথাও আমার কানে এসেছে। হায়! ভাগ্যিস এদের কারো সঙ্গে আমার গ্রামের কারো দেখা হয়নি। তবে সেই সময়ের আমিটাই তো আমি নই। এখনকার আমিটাই তো আমি। আমি তো তাই মনে করি। এজন্য যে তিতিকে আমি চিনতাম, আর যে তিতি এখন, তার ভেতরে খুব আলাদা কিছু নেই। কেবল একটা দিনের ভুল ছাড়া। তখন বলেছিলাম, তোমাকে তাহলে গ্রামেই পাঠিয়ে দিই। তিতি আমার পায়ে পড়েছিল। এত ঘেন্না করেছিলাম সেদিন ওকে। মনে হয় সেই প্রথম ওকে ঘেন্না করা। এতটা ঘেন্না করতে পেরেছিলাম বলেই হয়ত পরে এমন শান্তভাবে ওকে নিতে পেরেছিলাম। আমার ঘেন্নাটা কি তিতি এতটুকু টের পেয়েছিল? সারা রাত কেঁদেছিল তিতি। আর আমি সারারাত বারান্দায় বসেছিলাম। তিতি কয়েকবার এসে আমাকে টেনে তুলতে চেয়েছে। আমি তো জানি আমার সমস্ত আগুন নিভিয়ে দেওয়ার জন্য যা যা দরকার সব তিতির কাছে মজুত আছে।

প্রথম যেবার ওকে ঢাকায় নিয়ে এসেছিলাম বাসে, স্টিমারে পারাপারের সময় আমি তিতিকে বলেছিলাম।

-আমি ভালোবাসা দেব, আর তুমি?

তিতি বলেছিল, আমি দেব তোমার যা যা চাই সব।

-পারবে দিতে?

-কেন দেইনি বুঝি?

সেদিন এমন আবেগেঘন ছিলাম, যে মনে হচ্ছিল শত শত লোকের সামনেই তিতিকে জড়িয়ে ধরে আশ্লেষে চুমু খাই।

তিতি বলত, মেয়েদের ভালোবাসা চাই, আর পুরুষের চাই শরীর। পুরুষ নারীকে যেটা দিতে পারে, সেটা হলো ভালাবাসা, কিন্তু সেটা সে দেয় শরীর দিয়ে। আর নারী পুরুষকে যেটা দিতে পারে, সেটা হলো শরীর, কিন্তু সেটা দেয় সে ভালোবাসা দিয়ে। ভালোবাসা না হলে কোনো মেয়ে এক বাজে মেয়ে ছাড়া কেউ কাউকে শরীর দেয় না। আর শরীর দিতে না পারলে কোনো পুরুষের মনে সত্যিকারের ভালোবাসা জাগে না। এর আগে যেটা থাকে, তা প্রেম হোক কি বাসনা হোক, সম্পূর্ণ হয় না। অদ্ভুত!

তিতির ভেতরে থেকে সেদিন অন্য কেউ কথা বলছিল। মনে হচ্ছিল তিতি হলো এসব কথার একটা মাধ্যম মাত্র। অন্য কোনো স্তর থেকে এসব কথা আসছে আর তিতি কেবল উচ্চারণ করে যাচ্ছে। এমন কথা বলতে যে পারে না তাতো নয়। কিন্তু কই তেমন করে কখনো তো বলেটলে না। রাজ্যের নাটক-নভেল নিয়ে ওর দিন কাটে। বলত, দেখতে খারাপ ছিলাম। তারপর লেখাপড়াও ভালো ছিলাম না। গুণ বলতে কোনো জিনিসই ছিল না। একছার লম্বা ছিলাম শুধু। এক খালা আমার বয়সী, বলত, দুধপাছার কী সাইজ হচ্ছে দিনদিন, এ্যাই কাকে দিয়ে টেপাস, বলতো? হি হি হি।

আমার তিতিকে মনে হয়েছিল নরম মেহগনি কাঠের মতো কিছু। এমন নরম অথচ ততটাই আঁটো আর মজবুত। কিন্তু গ-গোল যেটা হয়েছিল, সেটা মারাত্মক। গ-গোল মানে তিতি ছিল আমার জন্য সেই ফাঁদ, যাতে আমার মতো লোকদের পড়তে হয়। আমার মতো বজ্জাত পাজি রাঙামূলার জন্য ঢাকানাওয়ালা ঝুঁড়ি হয়ে গিয়েছিল তিতি। প্রথম প্রথম আমি নিজেও বুঝতে পারিনি। সেই কবেকার প্রায় ভুলে যাওয়া জিনিস। আর হাতের করে তো গুণে শেষ করা যাবে না। কমসেকম চল্লিশ রকমের অভিজ্ঞতা হয়েছে। কোনো কোনোটা টাকা দিয়ে, না দিয়েও, বেশিরভাগ অবশ্য বিনাপয়সায়। তার ভেতরে সবচেয়ে পরান জুড়ানো অভিজ্ঞতাটা হয়েছিল দুলকি আপার সঙ্গে। দুলকি আপার দোহারা গড়ন। বিয়ে হয়েছিল এক মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। এখন স্বামীর সঙ্গে কানাডায়। ফেসবুকে তাকে পেয়েছিলাম। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম। একসেপ্ট করেনি। ভেবেছিলাম লিখব, আমার কথা কি মনে আছে, নাকি ভুলে গেছে। নাকি আসলে আমাকে আর কোনোভাবে জীবনের কোথাও কোনো জায়গা দিতে চাইছে না। পারিনি। আমি যেন দিনে দিনে কেমন হয়ে গেছি। নইলে তিতির ব্যাপারটা এত সহজেই মেনে নিতে পারতাম? মাঝে মাঝেই মনে হয়, কারো কিছু করায় না-করায় আমার কিছু আসে যায় না। এখন আমাকে কেউ ভালোবাসলো বা ঘৃণা করল, তাতে আমার এতটুকু লাভ বা ক্ষতি ঘটবে না। দুলকি আপাই শুধু নয়, আরো কয়েকজন আমাকে শ্রেফ ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল। আজকাল এটাকেই নাকি ‘ডাম্প’ করা বলে। আর আমি তিতিকে ব্যবহার করতে করতে ওর প্রেমে পড়ে গেলাম। কারণ এই না যে তিতিকে আমি অনেক ভালোবাসি। কারণ তিতি আমার সমস্ত ইচ্ছাসাধ বিনাদ্বিধায় মিটিয়ে দিতে পারে। যেমনটা নিজের সমস্ত সাধ আমাকে দিয়ে মিটিয়ে নিয়েছিল দুলকি আপা। এখন সেই আমাকে দিব্যি ভুলে গেছেন? হতেই পারে না। কিন্তু তাই হয়েছে। এই হতে পারে না, কিন্তু তাই হয়, জীবনের অনেক বাস্তবতার একটি। সময় বয়ে যায়, আর এটা ততই সত্য হয়ে ওঠে।

এখন কে কোথায়? কার জন্য কে জেগে থাকে রক্তে এত প্রতীক্ষা নিয়ে। পৃথিবীর দেশে দেশে বন্দরে বন্দরে মহাসুখে সময় উড়িয়ে বেড়ায় দুলকি আপা। আমাকেও দিনের পর দিন উড়িয়ে দিয়েছিল। আমার জীবনভুবনঅতীতবর্তমানভবিষ্যৎআত্মসত্তাস্মৃতিশ্রুতি, জেগে থাকা কি ঘুমিয়ে যাওয়া, আর ভালোমন্দের সমস্ত বোধ লুপ্ত করে দিয়েছিল দুলকি আপা। সে এক অবিশ্বাস্য সময় গেছে। নিজের গোসল করা দেখাতে দেখাতে জাদুর মতো টেনে নিয়ে আমাকে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে উধাও করে দিয়েছিল। তিতিকে পেছন থেকে গোসল করা অবস্থায় হুবহু দুলকি আপা মনে হয়। দুলকি আপার দেহ তো দেহ না শুধু, দেহবল্লরী। তাঁর সেই পুরাকীর্তির মতো ক্ষীণকোটিপীণবক্ষাগুরুনিতম্বিনী কাঠামোটা, তার সেই প্রত্নসম্পদ, এখন বিপুল মেদের নিচে চাপা পড়ে গেছে। বার বার ঠিক জিনিসটা টের পেতে তিতিকে পরীক্ষা করতে হয়েছে। আমার ভালোলাগাটা পরীক্ষিত। তিতি আমাকে নিয়েছিল কোনো পরীক্ষা ছাড়া। এখানে তিতি আমাকে হারিয়ে দিয়েছে। তবে তিতির জিৎ আমার আগের সমস্ত কিছু ভেঙে দিয়ে নতুন একটা আমিকে তৈরি করায়। বড়ই কোমল করে ধরেছিল আমাকে। ধীরে ধীরে আমাকে মুঠোর ভেতর নিয়েছিল সে। সেই তিতি কী করে পারল? কেবল কি মুহূর্তের ভুল বা দুর্বলতা? নাকি তলে তলে আরো আরো করেছিল এমন ভুল? ঠিক বুঝেই করেছিল? যেমন আমার সঙ্গে করেছিল? নিজে সুন্দর নয়, সে কিন্তু কেউ তাকে সুন্দর বলুক, বলুক তাকে ‘তার মতো আর কেউ নেই, তুমি অনন্যা, অসামান্য’- তাতেই মাত হয়ে যাবে সে? তাতেই কাত হয়ে যাবে সে? সেদিন আমি বলে গিয়েছিলাম ফিরতে আজ অনেক রাত হতে পারে। আমি বরাবরই এমন বলে যাই, বা ফোন করে জানাই। তিতির ফোন বন্ধই থাকে। তিতি ফোনে কারো সঙ্গে তেমন কথা বলে না। ফোনটা কেবল আমার জন্য রাখা। আমার রাত করে আসার কথা থাকলে সেদিন রাতে সে ফোন খোলে। বা আমি যদি ঢাকার বাইরে যাই, সে-সময়টায়। জানি না, কতটা ও কত দিকে গিয়েছে তিতি। মনে আমি কোনো সন্দেহের চারা পুঁততে চাই না। আমি তো সন্দেহ করাটাকেই সন্দেহ করি। তিতি নিজে আমাকে সুস্থ করে দিয়ে নিজেই কি অসুখে পড়ল? ভালোবাসার অসুখে? তালা চাবি বন্ধ করা ও খেলার খেলায়? অনেক দিন আগে একটা ছবি দেখেছিলাম, দুটো কালো নারী-পুরুষের। দুজনেই আদুল গায়ে। আর এমন আদুল গা দেখতেও ভালো লাগে। এতটুকু মেদ নেই কারো। আফ্রিকার আদিবাসী একজোড়া নারীপুরুষ। দুজনেই অ্যাথলেটের মতো দেখতে। ধনুকের ছিলার মতো টানটান শরীর। ছবিটাতে পটভূমি কালো। তবে কালো নারীপুরুষ দুজনের শরীর থেকে সাদামতো আলো যেন বের হচ্ছে। দুটি কৃষ্ণাঙ্গ শরীর যেন সাদা ছায়া ফেলেছে দেওয়ালে। ছবিটার মাঝখানে সরু রেখা টানা আছে। তাতে মনে হয় ছবিটা দুটো আলাদা ছবিকে একসঙ্গে করা হয়েছে। পুরুষটি বাম হাতটা বাম ঊরুতে রাখা। বাম সেই পাটা কোনো একটা উঁচু জায়গা রাখা, তাই বাম পাটা শরীরের সঙ্গে দ-য়ের মতো হয়ে আছে। অন্য পাটা সোজা করে রাখা। মাথা নিচু করে সে পুরুষটির ডান হাতে ঝুলিয়ে রেখেছে একটি রিং, যাতে নিচের দিকে তাক করে একটা চাবি ঝুলছে। হাতের আঙুলগুলি ভাঁজ করা, নিস্তেজ একটা গোটানো ভাব। নারীটির ভঙ্গিও প্রায় এক। খাপখোলা তলোয়ারের মতো পাতলা শরীর। ছোট ছোট স্তনদুটো যৌবনের পূর্ণতা নিয়ে উদ্যত। তার বাম হাতটা বাম কোমরের ভাঁজে রাখা আঙুলগুলি নিচের দিকে মুখকরা, বুড়ো আঙুলটি পেটের দিকে বাকি আঙুলগুলি কোমরের পেছন দিকে, খুবই আয়েসি ভাব। একটু উদাসীনও। পুরুষের মতো কোনো মিনতি মাঙ্গার কোনোমাত্র লক্ষণ নেই। উঁচু করা মাথায় তাতে রানির মতো কিছুতেই কিছু যায় আসে না ধরনের অহংকার ফুটে উঠেছে, সেটা হাতের তর্জনীতে থাকা ওই রিংটা আছে ভালেবাসা বা লাভ-চিহ্নের মতো লকেট। এই লকেটের চারপাশ আলো হয়ে আছে। যেটা পুরুষের হাতে থাকা রিংয়ের চাবিতে নেই। ভঙ্গি এক হলেও কিছু পার্থক্য আছে। যেমন পুরুষের গলায় আছে শেকলের মতো এঁটে থাকা মালা। এছাড়া সারা শরীর নিরাভরণ। নারীটির গলায় কিছু পরা আছে কিনা বোঝা যাচ্ছে না। লকেট ধরা হাতে বালা আর কোমরে রাখা হাতটায় চুড়ি পরা, সেই হাতের বাহুতে বাজুবন্ধ। কোমরে একটা পাতলা বিছাও আছে মনে হয়। পুরুষের চুল ছোট ও কোঁকড়ানো। নারীর মাথায় যেন আলপনা, নকশা করে কাটা এদিক ওদিকে অনেক সিঁথি, চুল, আর এখানে ওখানে ছোট ছোট খোঁপা করা। মাথাটাই যেন শিরস্ত্রাণের মতো। পুরুষের মুখটা একটু ভারী, সেই তুলনায় নারীর মুখটা পাতলা ধারালো। বহু আগে দেখা এই ছবিটার ভেতরে নারী কাছে প্রেম যাঞ্ছা করার অভিব্যক্তিটা দেখেছিলাম স্পষ্ট করে। নারীকে দিচ্ছে সে চাবি, আর নারী তাকে দিচ্ছে প্রেমচিহ্নওয়ালা লকেট। চাবি আর প্রেমচিহ্নওয়ালা লকেট কীসের প্রতীক সেটা তো বলবার দরকার নেই। তিতির সামনে কোনোদিন এভাবে না দাঁড়ালেও আমি ও তিতির দশা তো এমনই। জগতের সব নারী-পুরুষ যারা একে অন্যকে চায় তাদের চিরদিনের মনটা ওই ছবিতে ধরা পড়েছে। ছবিটা বার বার দেখতে পাচ্ছিলাম তিতি ও ছেলেটার পাশাপাশি দাঁড়ানোর ভেতরে। আর কানে বেজে যাচ্ছিল তিতির সেই কথাগুলি- মেয়েদের ভালোবাস চাই আর পুরুষের চাই শরীর। পুরুষ নারীকে যেটা দিতে পারে, সেটা হলো ভালাবাসা, কিন্তু সেটা সে দেয় শরীর দিয়ে, আর নারী পুরুষকে যেটা দিতে পারে, সেটা হলো শরীর, কিন্তু সেটা দেয় সে ভালোবাসা দিয়ে। ভালোবাসা না হলে কোনো মেয়ে এক বাজে মেয়ে ছাড়া কেউ কাউকে শরীর দেয় না। আর শরীর দিতে না পারলে কোনো পুরুষের মনে সত্যিকারের ভালোবাসা জাগে না। এর আগে যেটা থাকে, তা প্রেম হোক কি বাসনা হোক, সম্পূর্ণ হয় না। অদ্ভুত!

তিতিকে আমি কখনো অবিশ্বাস করতে পারিনি। এখনও পারি না। আগে মনে হতো তার মতো রূপহীন মেয়ের দিকে কে চাইবে। আর তিতির মতো এমন সরল মেয়েকে নিয়ে চিন্তার কিছু তো নেই। আমার এক বন্ধু বলেছিল একটা কথা, সেই বন্ধুকে বলেছিল তার এক ডাক্তার বন্ধু : বৈজ্ঞানিকভাবে তো নারীপুরুষের মেলামেশায় কোনো অসুবিধা নাই। পুরুষ চাইলে সারা জগৎ জুড়ে বীজ ছড়িয়ে বেড়াতে পারে। কিন্তু নারীকে সন্তান ধারণ করতে হয়। এখন তো নানান রোগের ভয়ে এই মেলামেশায় হুশিয়ার হতেই হয়। আর মনের মধ্যে বাধা বা কী করলাম এটা, কী করলাম এটা- এটা থাকলে কারোরই এদিকে না যাওয়াই ভালো। এছাড়া কোনো বাধা তো নেই। বাধা আরোপ করা আছে শুধু। সেই মতো তিতি কোনো ভুল করেনি। আর আমি আগে যা যা করেছি, তাতেও কোনো ভুল নেই। আমরা কেউ শরীরে কোনো কিছুর জীবাণু নিয়ে ঘুরি না। আমি কেবল তিতির কাছে জানতে চেয়েছিলাম, ছেলেটি কি প্রটেকশান নিয়েছিল। তিতি মাথা নেড়েছিল ওপর নিচে। আরো অনেক কথা জানতে ইচ্ছা করছিল, কিন্তু মুখে আসেনি। ইচ্ছা করছিল প্রশ্ন করতে, আরো কতজনের সঙ্গে, আর কতদিন ধরে…। আমি জানার আগেই তিতি হাউমাউ করে কেঁদে বলেছিল আমার জানতে চাওয়া কথাগুলি।

সেদিন আবারও মনে হয়েছিল, আমার মনের কথা তিতি ঠিক টের পায়। কারণ আমার মনে প্রশ্নগুলি যেভাবে জেগে উঠছিল, তিতি ঠিক ঠিক সেইমতো উত্তরগুলি দিয়েছিল। কোনোদিন এমন কিছু হয়ে যাবে কারো সঙ্গে কোনো দিন ভাবেনি। ছেলেটা মাঝে মাঝে আসত। ছেলেটা নিজেও নাকি বিচিত্রসব বইপত্র পড়ে। দুজনের মধ্যে বইয়ের গল্প নিয়ে কথা হতো। নানান গল্পের চরিত্রগুলি নিয়ে এমনভাবে তারা কথা বলত যেন ওইসব চরিত্র বাস্তবেই আছে, আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দেখা হওয়ার প্রথম দিনটার কথাও বলেছিল তিতি। একদিন সিঁড়ি দিয়ে ওঠা ছেলেটার হাতে একগাদা বই দেখে তিতি বইগুলি দেখতে চায়। দরজাটা খুলে ছিল দুধওয়ালার কাছ থেকে দুধ নিতে, আর সময়টা মাসের প্রথম দিকে ছিল, তাই সে মাসের দুধের দাম দিচ্ছিল। দরজাটা বন্ধ করার ঠিক আগে ছেলেটাকে দেখতে পায়। আমাদের ওপরের তলায় থাকে ছেলেটা। ছেলেটা যে আমাদের বিল্ডিংয়েই থাকে আমি জানতাম না। আমাদের বিল্ডিংয়ের কোন তলায় কে বা কারা থাকে আমি জানি না। পাশের বাসার লোকজনের সঙ্গেই তো আমার কোনো জানাশোনা নেই। কতজন থাকে তারা, দেশের বাড়ি কোথায়, আমি জানি না। তিতি ছাদে কাপড় মেলতে যায় যখন তখন কার সঙ্গে দেখা হয় না হয় জানি না। ছেলেটার সঙ্গে কয়েকটা সন্ধ্যা ছাদে গল্প করে কাটিয়েছে তিতি। তারপর কী মনে করে সেদিন ছেলেটাকে ঘরে নিয়ে এল। আর তাও এত রাতে। সেদিন ঘড়ি, সময় সব ভুলে গিয়েছিল দুজনে। ঘণ্টার পর ঘণ্টার পার হয়ে গিয়েছিল। দু-প্যাকেট সেন্সেশান খালি হয়ে গিয়েছিল। আর আমি সেদিন ফিরেছিলাম ঠিক তাদের সব গোছগাছ করে নিয়ে ঠিকঠাক হওয়ার পর পরই। কেবল বসবার ঘরের বিছানায় ছেলেটার পাশে ছিল তিতি। আমি তখন দরজার চাবি দিয়ে দরজা খুললে ভেতরে থেকে ছিঁটকিনি লাগানো দেখে, থাবা দিয়ে দরজায় বাড়ি দেই। দুজনে এত ভয় পেয়ে গিয়েছিল, তারপর তো ঘরে ঢুকে তিতির পাশে ছেলেটি দাঁড়ানো। চোখে মুখে বিহ্বলতা। তিতি একবার আমার দিকে একবার ছেলেটার দিকে তাকাচ্ছিল। তিতিকে জিজ্ঞাসা করতে হল না, নিজেই বলল, ভালোবাসি না ওকে আমি, শুধু ভালো লেগেছিল একটু। একটু ভালো লাগে ওর সঙ্গে কথা বলতে। সারাদিন এক একা থাকি। বইপড়ে সময় কেটে যায়। কিন্তু তারপর কী যেন হয়, কারো সঙ্গে পড়া জিনিসগুলি নিয়ে কথা বলতে যে এত ভালো লাগবে কোনোদিন বুঝিনি। ছেলেটার বান্ধবীও আছে। ওদের মধ্যে সব হয়েও গেছে। এজন্যও আমি ওকে আরো সহজভাবে নিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের কেউ আসলে নিজেদের ধরে রাখতে পারিনি। আগুন আর তেলের কাছাকাছি হয়ে যাওয়াই সত্য হয়ে গিয়েছিল।

পরে ছেলেটি আমার কাছে স্বীকার করেছিল, তিতির কোনো দোষ নেই। শুরু থেকেই তিতিই না না করছিল। প্লিজ এসব কোরো না। তুমি না একজনকে ভালোবাসো। বার বার অনেক কিছু মনে করিয়ে দিতে চেয়েছিল তিতি। কিন্তু ছেলেটি তিতির পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছিল। আমি তো জানি কী করে সেই নিয়ন্ত্রণ চলে যায়। তিতির ফ্রি প্রাইমারি স্কুলের পড়ানো বাপ তিতির বিয়েতে যৌতুক দিতে পারেনি। যৌতুক মানে টাকা। ভাইটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিদ্যা পড়ছিল। সেও কিছু করতে পারেনি। তাই তিতিকে ফিরিয়ে দিয়ে গিয়েছিল। ঠিক সেই সময় তিতির সঙ্গে আমার দেখা। আমি তিতিকে কীভাবে হাত করেছিলাম, যদিও পরে আমিই তিতির হাতে চলে গিয়েছিলাম পুরো। আমার দুনিয়ায় তিতি ছাড়া আর সব কিছু মুছে গিয়েছিল। তিতি বলেওছিল, সে আমাকে সব কিছু ভুলিয়ে দিতে পারবে। এমন শান্ত দেখতে আর মোটেও সুন্দর নয়, দেখতে মেয়েটার ভেতরে এত আগুন কোনোভাবেই বোঝার উপায় নেই। কেবল তার শক্তপোক্ত গড়নটার আভাস ছাড়া। সেদিন থেকে আমার ভেতরে তিতির জন্য আগে তীব্রতাটা মরে গিয়ে কেমন একটা শান্ত মায়াময় ভাব আসে। আমি ক্ষমা করতে পেরেছিলাম। এমনকি এও বলেছিলাম, ভবিষ্যতেও যদি তিতির সঙ্গে ছেলেটি কিছু করতে চায় তো করতে পারে। পারলে আমার সামনেই দুজনে যা খুশি করতে পারে। কিন্তু গোপনে নয়। গোপনে কিছু করলে…। আমি আসলে বাড়িয়ে বলছিলাম। ক্ষমা করার একধরনের অহংকার আছে। মেনে নেওয়া ভেতরে ভেতরে পাল্টা উগ্রতা বুনে দেয় না কে বলতে পারে। তিতির জন্য এত মায়া হয়। আমি ছাড়া তার তো কেউ নেই। একবার একটা সংসার থেকে দাগা খেয়েছে। এখন সে আমার ছেলের মা। ছেলেটা যে আমার তাতে কোনো সন্দেহ নাই। আমার মুখটা একেবারে ছেলেটার মুখে বসানো। দীপ্তর দিকে তাকালে আমি ছোটবেলার আমাকে দেখতে পাই। তিতির জন্য তাই সব ভেঙে গিয়ে কী একটা হয়, যেটা আগে কখনো হয়নি। আমি ওর সঙ্গে আগের মতোই স্বাভাবিক থাকিও। আর তিতি আরো বেশি করে আমার কাছে নিজেকে শঁপে দেয়। ওর শরীরটা নিয়ে আমি যা খুশি করতে পারি। তিতি সেটা যা খুশি বলেও মনে করে না। কখনই মনে করেনি। আদুরে বেড়ালের মতো আদর নিতে ভালোবাসে তিতি। আগের চেয়েও আরো নিবিড়ভাবে সাড়া দেয়। আমি টের পাই তিতির ভেতরে কোনো ফাঁকি নেই। অবশ্য আমি তো সেটা আমার মতো করে অনুভব করি বলেই হয়ত মনে হয়। আমি যদি তিতির প্রতি সন্দেহকাতরতা নিয়ে নতুন দিনগুলি শুরু করতাম তাহলে কি এমন মনে হতো? তার সত্যিকারের সমস্ত নিবেদনকেও আমার ছল বলে মনে হতো। আমি তার আগের তিতির সঙ্গে পরের তিতির কোনো তুলনা করতে চাই না। মানুষেকে জানা যায় তুলনামূলকভাবে, নাকি ছলনামূলকভাবে, কোন কৌশলে কাউকে কত সহজ বা কঠিন করে দখল করা যায়, নিশ্চিত বলা যায় না। কোথায় ছল কাজ করে, আর কোথায় বল কাজ করে- আগাম কেউ বলে দিলেও পরে দেখা যায়, ঠিক হুবহু জিনিসটা খাটছে না। তখন নতুন করে কায়দাকানুন বানাতে হয়। প্রেমের ভেতরে প্রেম, তার ভেতরে প্রেম। শরীরে ভেতরে শরীর তার ভেতরে শরীর। এভাবে অন্তহীন দুই বা ততোধিক আয়না মুখোমুখি। এক আয়নার ভেতরে শত শত অন্তহীন আয়না। একটি কায়ার শত শত, অন্তহীন প্রতিবিম্ব। এভাবে দেখতে পারি হয়ত নিজেকে নিজের অজান্তে। এক আমি ভেতরে কত আমি। তাই জীবনের কোনো একটা কিছুকেই এখানে শেষ বলে ধরে নিতে পারি না। আমার এই মনটা তিতিই তৈরি করে দিয়েছে। তারপর ওই ঘটনার পর তিতির জন্য কতটা ভালোবাসা আর কতটা কৃতজ্ঞতা আমি আলাদা করে এর কোনটা কম কোনটা বেশি নিশ্চিত করতে পারি না। কেবল টের পাই, সব কিছুর পরও কিছু একটা থেকে যায়, তলানিতে হলেও থেকে যায়। পরিমাণে তা একটা বিন্দু হলেও তার ক্ষমতা পারমাণবিক। সেখানে সব মানবিকতা হেরে যায়। আগের সব চূর্ণ হয়ে নতুন একটা শান্ততার জন্ম হয়। বিস্ফোরণের পর পাওয়া তেমন শান্তি নিয়েই আমাকে ঘরে ফিরতে হয়। আর যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হয়।

১৪ অক্টোবর ১৭

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close