Home অনুবাদ হারুকি মুরাকামি / অদ্ভুত এক লাইব্রেরি [২য় পর্ব] > অনুবাদ : আফসানা বেগম

হারুকি মুরাকামি / অদ্ভুত এক লাইব্রেরি [২য় পর্ব] > অনুবাদ : আফসানা বেগম

প্রকাশঃ February 24, 2017

হারুকি মুরাকামি / অদ্ভুত এক লাইব্রেরি [২য় পর্ব] > অনুবাদ : আফসানা বেগম
0
0

[দ্বিতীয় পর্ব]

“আমার পেছনে পেছনে আসো,” বুড়ো লোকটি বলল।

করিডোর ধরে সামান্য এগোতেই একটা বাঁকে এসে পৌঁছলাম। বুড়ো লোকটি ডান দিকে ঘুরল। সেখান থেকে আরেকটু সামনে গেলে আরেকটা বাঁক। সেখানে সে ধরল বামের করিডোর। আর তারপর থেকে কেবল বাঁক আর বাঁক, একের পর এক, প্রতিটি মোড়ের কাছে এসে বুড়ো লোকটি বিন্দুমাত্র চিন্তা না করেই নতুন একটা দিকে হাঁটা শুরু করছিল, একবার ডানে তো আরেকবার বামে। তার মধ্যে আবার কখনো হুট করে সে একটা দরজা খুলে হেঁটে যাচ্ছিল আর আমরা সম্পূর্ণ নতুন অন্য একটা করিডোরের ভেতর দিয়ে এগোচ্ছিলাম।

আমার তখন মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। এ তো ভারি অদ্ভুত ব্যাপার, একটা শহরের প্রধান লাইব্রেরির মাটির নীচের তলায় এমন ভয়ানক আর অদ্ভুতুড়ে গোলোকধাঁধা থাকবে কেন? মানে আমি বলতে চাচ্ছিলাম, জনগণের জন্য খোলা যে লাইব্রেরি সেখানে বরাবর টাকাপয়সার টানাটানি লেগে থাকার কথা, তাই বিল্ডিং হবার কথা ছোটোখাটো, যতটুকু না হলেই নয়, এরকম ঘোরালোপ্যাচালো গোলকধাঁধার তো প্রশ্নই ওঠে না। আমার মনে হলো বুড়ো লোকটাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা জরুরি, কিন্তু আবার ভয়ও হলো যে আমার প্রশ্ন শুনেই সে না আবার আগের মতো চিৎকার শুরু করে দেয়!

এলোমেলো করিডোরের এক প্রান্তে আমরা শেষ পর্যন্ত একটা স্টিলের দরজার সামনে এসে পৌঁছলাম। বিশাল সেই দরজার উপরে একটা সাইনবোর্ড ঝুলছে, লেখা “পড়ার ঘর”। ঘরটি জুড়ে মধ্যরাতের কবরস্থানের মতো শীতলতা আর নীরবতা।

বুড়ো লোকটা তার ঢিলেঢালা কাপড়ের পকেট থেকে বড়ো একটা চারির রিং বের করল, তারপর সেই রিঙে ঝুলে থাকা অসংখ্য চাবি নাড়াচাড়া করে খুবই পুরোনো গোছের একটা চাবি বেছে নিল। স্টিলের দরজার তালায় ঢোকাল সে চাবিটা, আমার দিকে হাসি হাসি মুখ করে দ্রুত তাকিয়ে নিল একবার, তারপর চাবিটা ডান দিকে মোচড় দিল। চাবির চাপে তালার বোল্টটা সরে যাওয়ার সময় পুরোনো ধাঁচের ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ করিডোরে ছড়িয়ে পড়ল। দরজাটা দীর্ঘ শব্দ করে ধুলো উড়িয়ে ধীরে ধীরে খুলে গেল।

“হয়ে গেল, এই তোমার পড়ার জায়গা,” বুড়ো লোকটা বলল। “এবারে তুমি ভেতরে যেতে পার।”

“এই ঘরের ভেতরে?” আমি অবাক হলাম।

“হ্যাঁ, এই ঘরের ভেতরেই।”

“কিন্তু এখানে তো ঘুরঘুটি অন্ধকার,” শুনলে মনে হবে আমি যাব না বলেই প্রতিবাদ করলাম। কিন্তু এটা সত্যি যে সেই ঘরের ভেতরে ছিল এমনই অন্ধকার যেন কৃষ্ণ গহ্বরের মধ্যে কোথাও একটা ফুটো করে তাকিয়ে আছি।

 

বুড়ো লোকটা এবারে সোজা হয়ে আমার দিকে ঘুরে দাঁড়াল। তখন কেন যেন হঠাৎ করে তাকে বিশাল লম্বাচওড়া মনে হচ্ছিল। আর ঠিক তখনই তার ঘন ভুরুর নীচে চোখদুটো এমনভাবে জ্বলে উঠল যেন শেষ বিকেলের আলোয় দেখা কোনো ছাগলের চকচকে চোখ।

“আচ্ছা, তুমি কি সেইরকম একটা ছেলে যে কিনা সবকিছুতেই কোনো না কোনো ভুল খুঁজে পায়, বিষয়টা যতই জরুরি হোক, তবুও?”

“বিশ্বাস করেন, স্যার, আমি মোটেও তেমন ছেলে নই। কিন্তু ঘরটার ভেতরে তাকিয়ে আমার সত্যি সত্যিই এমনটা মনে হলো যেÑ”

“শোনো, তোমার আবোলতাবোল কথা যথেষ্ট হয়েছে,” বুড়ো লোকটা বলল। “যারা তাদের জন্য কেউ ভালো কিছু করতে চেষ্টা করছে দেখেও তাকে অগ্রাহ্য করে সমস্ত কিছুতে একগাদা অজুহাত তৈরি করে তাদের আমি দুই চোখে দেখতে পারি না। এরকম লোকেরা সব জায়গাতেই থাকে, অকর্মণ্য একেবারে।”

“আমাকে মাফ করবেন দয়া করে,” আমি ক্ষমা চাইলাম। “আর আমি অবশ্যই পড়ার জন্য এই ঘরের ভেতরে যাব।”

আমি কেন সবসময় এমন করি, যখন কিনা একটা বিষয়ে আমি সত্যিই একমত হতে পারছি না, তখন অন্য কাউকে কেন আমি আমার ইচ্ছের উপরে জোর খাটাতে দেই?

“এই দরজার ওপাশে দেখবে একটা সিঁড়ি আছে,” বুড়ো লোকটা বলল। “সিঁড়িটার রেলিং টাইট করে ধরবে যেন তুমি পড়ে না যাও।”

ঘরটিতে ঢোকার সময়ে আমিই প্রথমে পা দিলাম। বুড়ো লোকটা তখন আমাদের পেছনের দরজাটা লাগিয়ে দিল, সামনে পেছনে সবকিছু মুহূর্তেই গাঢ় অন্ধকারে ডুবে গেল। দরজার তালাটায় লোকটার চাবি ঘোরানোর শব্দটা আমি স্পষ্ট শুনতে পেলাম।

“আপনি দরজায় তালা লাগালেন কেন?”

“এটাই এখানকার নিয়ম। এই দরজা অবশ্যই সব সময় তালা লাগিয়ে রাখতে হবে।”

আমার তখন আর কী-বা করার ছিল? আমি হাতড়ে হাতড়ে সিঁড়ি ধরে নামতে লাগলাম। সিঁড়িটা ছিল অসম্ভব লম্বা। এতই লম্বা যেন মনে হলো নামতে নামতে ব্রাজিলে চলে যাব। রেলিঙের উপরে ধরার জায়গাটার লোহায় গুড়ো গুড়ো জং ধরে ছিল। কোনোদিকে এক ফোঁটাও আলো ছিল না। শেষপর্যন্ত আমরা দুজন সিঁড়ির শেষ মাথায় গিয়ে উপস্থিত হলাম। সেখান থেকে খানিকটা সামনে আমি অস্পষ্ট একটা আলো দেখতে পেলাম, খুবই ক্ষীণ একটা আলো, তবু তার আগে বহুক্ষণ অন্ধকারে অভ্যস্ত চোখকে ধাঁধিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট। কে যেন সেখানে পেছন থেকে এসে আমার একটা হাত ধরল। দেখলাম ছোটোখাটো একটা লোক গায়ে একটা ভেড়ার চামড়া জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

“এসেছ? এখানে আসার জন্য অনেক ধন্যবাদ,” ভেড়ার চামড়া জড়ানো লোকটা বলল।

“শুভ সন্ধ্যা,” বললাম আমি।

 

ভেড়ার চামড়াটা সত্যিকারের, ভেড়ামানুষের শরীরের প্রতি ইঞ্চি চামড়াটা দিয়ে মোড়ানো ছিল। শুধুমাত্র তার মুখের জন্য খানিকটা জায়গা খোলা, তবে সে যাই হোক, ওইটুকুর মধ্যেই তার এক জোড়া মমতাময় চোখ চিকচিক করছিল। তার গায়ের চামড়ার পোশাকটা তাকে বেশ মানিয়েও যাচ্ছিল। ভেড়ামানুষটা আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল; আর তারপর তার চোখ নেমে এল আমার হাতের ভারী তিনটি বইয়ের উপরে।

“হায় হায়, তুমি এখানে পড়তে এসেছ, মানে সত্যি সত্যি?”

“অবশ্যই, পড়তে এসেছি,” আমি উত্তর দিলাম।

“মানে তুমি বলতে চাচ্ছ যে তুমি সত্যি সত্যি ভেবেচিন্তে এখানে এই বইগুলো পড়তে এসেছ?”

ভেড়ামানুষটির কথা বলার ভঙ্গিটা ছিল খুবই অদ্ভুত। আমি ঠিক বুঝলাম না তার কথার কী উত্তর দেব।

“এদিকে আসো, ফালতু আলাপ বন্ধ কর,” বুড়ো লোকটা আদেশ করল। “তুমি তো এখানে পড়তে এসেছ, ঠিক না? তো ওকে সরাসরি সেটা বলে দিলেই হয়ে যায়।”

“একদম ঠিক, আমি এখানে পড়তেই এসেছি।”

“এবারে তুমি ভালোভাবে শুনতে পেয়েছ তো?,” বুড়ো লোকটা ভেড়ামানুষের দিকে চিৎকার করে বলল।

“কিন্তু, স্যার,” ভেড়ামানুষটা কোনোরকমে বলল। “এ তো একেবারেই বাচ্চা।”

“চুপ করো!” বুড়ো লোকটা গর্জে উঠল। তারপর সঙ্গে সঙ্গেই সে তার পোশাকের পেছনের পকেট থেকে একটা সরু বেত বের করে ভেড়ামানুষের মুখে আড়াআড়িভাবে দিল এক বাড়ি। “একে পড়ার ঘরে নিয়ে যাও, এক্ষুণই!”

ভেড়ামানুষকে দেখে মনে হলো দারুণ বিপদে পড়েছে, কিন্তু কিছুক্ষণ আমতা আমতা করে তারপর ঠিকই আমার হাতটা ধরল। বেতের বাড়িটা তার ঠোঁটের পাশটায় একটা লাল দাগ ফেলে গেল। “ঠিক আছে, যেতে যখন হবেই, চলো।”

“কোথায়?”

“পড়ার ঘরে, আর কোথায়? তুমি তো এখানে ওই মোটা বইগুলো পড়তে এসেছ, ঠিক না?”

ভেড়ামানুষ আমাকে আরও খানিকটা নীচে এক হলরুমের ভেতর দিয়ে নিয়ে যেতে লাগল। বুড়ো লোকটা সামান্য দূরত্ব রেখে আমাদের পেছনে পেছনে আসছিল। ভেড়ামানুষের পোশাকের পেছন দিকে ছোট্ট একটা লেজ, সে যখন হেঁটে যাচ্ছে তখন প্রতিবার পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গে সেটা পেন্ডুলামের মতো একবার বামদিকে তো আরেকবার ডানদিকে দুলছিল।

“হয়েছে, হয়েছে,” হলরুমের শেষ প্রান্তে এসে ভেড়ামানুষটা বলে উঠল। “জায়গামতো এসে পড়েছি আমরা।”

“একটু দাঁড়ান, ভাই ভেড়ামানুষ,” আমি বললাম। “এটা কি আসলে একটা জেল?”

“জেলই তো,” ভেড়ামানুষ বলল।

“নখ দিয়ে ওর মাথায় একটা খোঁচা দাও,” বুড়ো লোকটা ভেড়ামানুষকে বলল।

 

“এরকম কোনো কিছু তো আপনি আমাকে বলেননি,” বুড়ো লোকটাকে বললাম আমি। “আমি আপনার কথা শুনে এতদূর পর্যন্ত হেঁটে এসেছি, আপনি কেবল আমাকে বলেছেন পড়ার ঘরে যেতে হবে।”

“আরে, তোমাকে তো ধরে আনা হয়েছে,” মাথা দুলিয়ে ভেড়ামানুষটা বলল।

“সে ঠিক বলেছে। আমি তোমার চোখে ধুলো দিয়ে তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছি,” বুড়ো লোকটা বলল।

“আপনি এটা কীভাবে পারলেন . . .”

“একদম চুপ, গাধা কোথাকার,” বুড়ো লোকটা হুঙ্কার দিয়ে উঠল। দ্রুত সে তার পেছনের পকেট থেকে বেতটা টেনে আনল আর আমার মাথায় মারার জন্য দিল একটা বাড়ি। আমি সঙ্গে সঙ্গে দুই পা পেছনে চলে এলাম। আমি কিছুতেই আমার মুখের উপরে আড়াআড়ি একটা দাগ চাইনি।

“এবারে তুমি সোজা ভেতরে যাও- আর একটা কথাও শুনতে চাই না। এই তিনটা বইয়ের সামনের কভার থেকে পেছনের কভার পর্যন্ত ঝরঝরে মুখস্ত করো গে,” বুড়ো লোকটা বলল। “আজকে থেকে এক মাস পরে আমি নিজে এসে তোমার পরীক্ষা নেব। যদি আমি দেখি যে বইগুলোতে যা আছে সেসব আগাগোড়া তোমার নখদর্পণে এসে গেছে, তখন তোমার ছুটি।”

“এরকম ভারী ভারী তিনটা বই মুখস্ত করা তো অসম্ভব,” আমি কোনোরকমে বললাম। “আর আমার মা সত্যিই এতক্ষণে আমার জন্য ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেছেন . . .”

বুড়ো লোকটা দাঁত বের করে হো হো করে হাসল আর প্রায় সাথে সাথেই বেতটা শূন্যে উঠিয়ে আমার পায়ের দিকে একটা বাড়ি মারল। আমিও বাড়ি পড়তে না পড়তেই শূন্যে লাফিয়ে উঠলাম। বেতটা আবার গিয়ে লাগল সেই বেচারা ভেড়ামানুষের মুখে। রাগের চোটে বুড়ো লোকটা তখন ভেড়ামানুষকে আরো কয়েকটা বাড়ি লাগিয়ে দিল। এই কাজটা সে সাংঘাতিক অন্যায় করেছিল।

“একে ধাক্কা দিয়ে জেলের মধ্যে ঢুকিয়ে দাও। তোমার উপরে কাজটা ছেড়ে দিয়ে গেলাম,” বুড়ো লোকটা আদেশ করল আর দ্রুত সেখান থেকে চলে গেল।

“তোমার কি খুব ব্যথা লেগেছে, ভাই?” ভেড়ামানুষের কাছে জানতে চাইলাম আমি।

“নাহ্, অসুবিধা নেই। এসব বেতের বাড়িতে আমার অভ্যাস আছে,” ভেড়ামানুষ বলল। এমনিতেও দেখে মনে হচ্ছিল না যে অত জোরে তাকে মারা হয়েছে।

“শুধু এই কাজটা করতে আমার ভীষণ খারাপ লাগে। কিন্তু আমাকে সেটা করতেই হবে। তোমাকে জোর করে জেলে ঢুকিয়ে তালা লাগিয়ে দিতে হবে আমাকে।”

“আচ্ছা, আমি যদি বলি জেলের ভেতরে ঢুকব না, আমি যদি কিছুতেই না ঢুকি? তাহলে কী হবে?”

“তাহলে আর কী, বুড়োটা আমাকে আরো জোরে জোরে পেটাবে।”

ভেড়ামানুষের দুর্ভাগ্যের জন্য আমার খুব কষ্ট হলো, তাই আমি নিজে নিজেই জেলের ভেতরে ঢুকে গেলাম। সেখানে ছিল খুবই সাধারণ একটা বিছানা, একটা টেবিল, একটা বেসিন আর পাশে ফ্ল্যাশ আর কমোড বেসিনের উপরের দিকে একটা টুথব্রাশ আর কাপ রাখা। কোনোটাই তেমন মনে হলো না যাকে বলা যায় পরিস্কার। সেখানে রাখা টুথপেস্টটা স্ট্রবেরির গন্ধওলা, যেটা আমি একেবারে সহ্য করতে পারি না। ভেড়ামানুষটা টেবিলের উপরে রাখা টেবিল ল্যাম্পটা নিয়ে খেলছিল, একবার অফ আরেকবার অন।

“অ্যাই, এদিকে দেখ,” আমার দিকে তাকিয়ে খুশি খুশি মুখ করে সে বলল। “এটা অন অফ করতে মজা না?”

 

“আমি দিনে তিনবার তোমার জন্য খাবার নিয়ে আসব,” ভেড়ামানুষটা বলল। “তাছাড়া বিকেল তিনটার সময়ে নাস্তা হিসেবে তোমার জন্য ডোনাডও আনব। ডোনাডগুলো খাওয়ার আগে আগে আমি নিজে ভাজি, তাই সেগুলো কুড়মুড়ে আর খেতেও মজা।”

খাওয়ার আগমুহূর্তে বানানো ডোনাড বরাবর সবচেয়ে প্রিয় খাবার আমার।

“ঠিক আছে, এবারে তোমার পা দুটো দাও দেখি।”

আমি দুটো পা জোড়া করে তার দিকে বাড়িয়ে দিলাম।

ভেড়ামানুষটা একটু ঝুঁকে খাটের নীচ থেকে একটা ভারী ধাতব বল লাগানো চেন টেনে বের করে আনল, চেনটা আমার দুই পায়ের গোড়ালি জড়িয়ে পেঁচিয়ে ফেলল, ভালো করে প্যাঁচানো হয়ে গেলে তালা লাগিয়ে দিল। তালা লাগিয়ে চাবিটা যত্ন করে নিজের বুকপকেটে রেখে দিল।

“চেনটা তো ভয়ানক ঠান্ডা,” আমি বললাম।

“অত চিন্তার কিছু নেই। কিছুক্ষণ পায়ে থাকতে থাকতেই অভ্যাস হযে যাবে।”

“ভাই, ভেড়ামানুষ, সত্যিই কি আমাকে এখানে টানা এক মাস আটকে থাকতে হবে?”

“হ্যাঁ, তুমি যা যা বই পড়তে এনেছ, সেসবের কথা ধরলে এক মাসই তো লাগার কথা।”

“কিন্তু আমি যদি আগে আগে বইগুলো মুখস্ত করে ফেলি তবে তো বুড়ো আমাকে আগেভাগেই ছেড়ে দেবে, দেবে না?”

“আমার মনে হয় না বুড়ো তোমার প্রতি এতটা সদয় হবে।”

“কিন্তু তারপরে সে আর আমাকে নিয়ে করবেটা কী?”

ভেড়ামানুষটা বিষণ্নভাবে দুদিকে মাথা দোলাল। “কী আর বলব, সেটা বলাই আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন।”

“দয়া করে বলো, ভেড়ামানুষ, জানোই তো, আমার মা বাড়িতে অস্থির হয়ে অপেক্ষা করছেন আমার জন্য।”

“ঠিক আছে, বাবু, আমি তাহলে তোমাকে সত্যি কথাটাই বলে দেই। তুমি এই বইগুলো মুখস্ত করে ফেললে তোমার মাথার উপরে একটা ফুটো করা হবে। তারপর তোমার মগজটা চু চু করে চুষে খাওয়া হবে, বুঝলে?”

কথাগুলো নিজ কানে শোনা আমার জন্য ছিল ভয়ানক বেদনার।

“তার মানে হলো গিয়ে-,” ভেড়ামানুষের কথা শুনে ধাতস্ত হতে আমার একটু সময় লাগল। আমি বললাম, “তোমার কথার মানে হলো গিয়ে বুড়ো লোকটা আমার মাথার ভেতরের মগজটা খেয়ে ফেলবে?”

“ঠিক তাই, আমার সত্যিই খারাপ লাগছে তোমার জন্য, তবে এখানে শুরুর থেকে এমনই হয়ে আসছে,” অবলীলায় বলল সে।

[শেষ অংশ শিগগিরই প্রকাশিত হবে]

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close