Home কবিতা হাসান রোবায়েত > কবি ও কর্ণের আখ্যান এবং ‘মীনগন্ধের তারা’ থেকে ৩টি কবিতা >> আমার বই আমার কথা

হাসান রোবায়েত > কবি ও কর্ণের আখ্যান এবং ‘মীনগন্ধের তারা’ থেকে ৩টি কবিতা >> আমার বই আমার কথা

প্রকাশঃ January 30, 2018

হাসান রোবায়েত > কবি ও কর্ণের আখ্যান এবং ‘মীনগন্ধের তারা’ থেকে ৩টি কবিতা >> আমার বই আমার কথা
0
0

হাসান রোবায়েত > কবি ও কর্ণের আখ্যান >> আমার বই আমার কথা

 

একজন মানুষের সারাটা শরীর জুড়ে কি চোখ থাকতে পারে? হুম! পারে হয়তো। সেদিন কমল দা এমন একটা গল্প বলতে বলতে নিয়ে যাচ্ছিলেন সিনেমা দেখতে। কিন্তু সে তো রূপকথায় বা ঠাকুমার ঝুলিতে। তারপর, একদিন হঠাৎ মনে হলো—কেবল কবিরই থাকতে পারে অমন দিব্য চোখ। যার চাউনিতে ধরা পড়ে জারুল ফুলের বিকাল।
নিজের বই নিয়ে কী লেখা যেতে পারে! সমস্ত লেখাই তো একদিন নতমুখে চেয়ে থাকে। যেন সঠিক পরিচর্যা সঠিক আদর পায় নি তারা। এত এত গূঢ় অভিযোগ নিয়েই এইসব লেখাপত্রের কাছে দাঁড়াতে হবে—তখন লেখকের সমস্ত অহম ধুলায় মলিন হয়ে উড়ে যাবে কোথাও।
ইদানিং কবিকে আমার কর্ণের মতো মনে হয়। চারদিকে যুদ্ধধ্বস্ত স্বজন, নিজেরই মাতা প্রকারন্তরে যাকে ঠেলে দিচ্ছে পরাজিত হবার বাসনার দিকে। ক্ষত্রিয়-ইগোর বসে যিনি দ্বিতীয়বার সঠিক শরসন্ধান করবেন না অনায়াসে। থৈ থৈ মৃত্যুর বেহালা বাজতে থাকবে দশদিক। রথের বাম চক্র ভূমিতে গেঁথে গেলেও যিনি ক্ষাত্রধর্মমতে একটুও অবসর পাবেন না। এমনকি শেষ সময়েও শুনতে থাকবেন কৃষ্ণের কূটনীতি। এমনই—ঠিক এমনই হতে পারে কবির নিয়তি।
শেষতক এমন নিয়তিকেই মেনে নিই আমি। কর্ণভাগ্যকে মেনেই হয়তো লিখতে চাই আমার সকল টেক্সট। সবই ব্যর্থ জেনেও শিখে নিতে চাই নানান শস্ত্রের রূপ। যা আমার একান্ত। যা আমি পেতে চাই মহান কবিদের লিখে যাওয়া টেক্সট থেকে। কেননা আমি মোটেও স্বয়ম্ভু নই। যাদেরকেই পড়েছি, শুনেছি তারা প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে পরশুরাম হয়ে ধরা দেন। আমি শিখে নিতে থাকি অক্লান্ত, সেইসব তীক্ষ্ণ অস্ত্র।
যদি কোনো দিন কেউ একজন আকুল পথের পাশে হেঁটে যেতে যেতে একবারও আমার লেখার কিছু বাক্য মনে করে আনন্দ অথবা বিষাদে ভরে ওঠে তবে হয়তো আমিও সার্থক হবো যেভাবে, কর্ণের পড়ে থাকা শরীর থেকে একটি আলোক রশ্মি পৌঁছে গেছিল সৌরভূমণ্ডলে—!

 

স্যালারির চিঠি

এখানে দুপুর—
ডালিম অব্দি যেতেই ফেটে লাল

ঘড়ির ভেতর বসে বসে
কেউ একজন
ফুলচারা লাগাচ্ছেন—অনেক দূরের থেকে
সেসব ফুটে ওঠা কল্পনা
দুলছে ছায়ায়—
পাতাটা ভাষার দিকে ঝুঁকে আছে—
যেন তোমাকে ডাকছে লাল এলাচ ফুলের হাওয়া—

মাটি ও ঝরার পাশে
হাঁসেদের বক্রতার দিন—
অনন্ত ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসছে আবার
যতটা ভর রাখে একটি মৌমাছি এলাচ ফুলের উপর

অন্ধ লোকগুলো সমুদ্রের ঢেউকে ভেবে নেয়—
যেন হিমজুঁই ফুটে আছে
রক্তহাওয়ার ভেতর
একটি ধানের শিষ
হেলে আছে চাঁদের আলোর ভারে—

কারো স্যালারির চিঠি
ভিজে যাচ্ছে বৃষ্টিতে

 

রু

 

যদি না তুমিও ফিরে আসো এই পথে
এর ধুলাবালি ছেঁড়া স্যান্ডেল-পাশে
পাকার যেখানে গমখেতে সূর্যেরা
কাকতাড়ুয়ার আত্মা কাঁপছে ঘাসে—

তরমুজে লাল ছড়িয়ে পড়ছে রাত
বাতাসে মদের আকণ্ঠ দ্রাব্যতা
নারিকেল সারি চরছে জোসনা ভরে
মেশে দিগব্যাপী বিন্দু ও পরমতা

বনের মধ্যে একেকটি লাল ট্রেন
মনে হয় কোন জিরাফের উৎকণ্ঠা
ঘুমের চূড়ায় গির্জার প্রাচীনতা
কুয়াশা পেরিয়ে ভেসে আসে দূর ঘণ্টা

তুমি কি মনের পড়ে যাওয়া বিব্রত
অনেক কালের মুদি-দোকানের ঋণ!
চাঁদকে এখানে পোড়ানোর কৌশলে
রাত্রির দিকে ছুড়ে দিই কেরোসিন—

 
বিবাহপথের কত দিন তুমি ছায়া
মাঠে পড়ে আছে সহমেয়েদের গীতি
বালির শঠতা ঝরে গেল কেয়াবনে
পাথর ফেরে নি, ফিরে আসে বিস্মৃতি—

 
পরা-মানুষের স্মৃতি

 

এই যে মৌন প্রপেলার—
ঢেউয়ে চিত্রার্পিত: ক্লান্ত স্বপ্নের পাশে উড়ে যায়
ঘোরে রুহ মৃদু উল্লম্ফনে
ব্রোঞ্জের ফাঁকা নিদ্রায়—

যাও প্রতারণা
যাও একাকিনী সমুদ্র-ক্ষার
গতিহীন পরা-মানুষের স্মৃতি—
আছে অভিঘাত, ব্যাধি-হাহাকার

কাঁপে মর্গের পাশে ফোটা ফুল
এ কি ক্ষয়! না কি ভালগার!
বাতাসে উড়ছে
মৃদু পরিতাপ
শাদা ফুলগুলো, ভাবি, শোচনার—

কতটা হাওয়ায় ছিল জটিলতা
চৌকাঠ আর
লেবুগাছটির ভুলে
তবু সংকেত পড়ে আছে রোদে
ধু ধু বাতাসের উপকূলে—

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close