Home যুক্তি তক্ক গপ্প পাঁচ কবির আড্ডা / বিষয় : ‘এই সময়ের সাহিত্যচর্চা’ [পর্ব ১]

পাঁচ কবির আড্ডা / বিষয় : ‘এই সময়ের সাহিত্যচর্চা’ [পর্ব ১]

প্রকাশঃ January 23, 2017

পাঁচ কবির আড্ডা / বিষয় : ‘এই সময়ের সাহিত্যচর্চা’ [পর্ব ১]
0
1

[সম্পাদকীয় নোট : আড্ডা। বাঙালির চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতাকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করেছে। ‘এইসময়ের সাহিত্য’ নিয়ে কথা বলার জন্যে কিছু দিন আগে এরকমই একটা আড্ডায় কবি জাহিদ হায়দারকে ঘিরে মেতে উঠেছিলেন কবি মাসুদুজ্জামান, ফরিদ কবির, সাখা্ওয়াত টিপু ও অরবিন্দ চক্রবর্তী। সেই আড্ডায় উপস্থিত কবিদের আলাপচারিতায় উঠে এসেছিল সমকালীন সাহিত্যচর্চার নানান প্রসঙ্গ। তুমুল তর্ক-বিতর্কে মেতে উঠেছিলেন তারা। আজ প্রকাশিত হলো ওই আড্ডার প্রথম পর্ব। উল্লেখ্য, আড্ডাবাজ কবিরা ওই আড্ডায় যা বলেছেন তা তাদের নিজস্ব মত বলে ধরে নিতে হবে, তীরন্দাজের নয়।]

১১untitled

ফরিদ কবির : আমিই না হয় শুরু করি। কবিতার সাক্ষাৎকার যারা এখন দেন, তাদের সাক্ষাৎকার আমি ব্যক্তিগতভাবে পড়তে চাই না বা পড়ি না, পড়ে ভালোও লাগে না, কারণ তারা কেউ সত্য কথা বলে না। তারা কারো কবিতা ভালো সেটাও বলে না। কারো কবিতা খারাপ তাও বলে না। তো আপনার কি সেরকম ভীতি আছে নাকি?

জাহিদ  হায়দার : আসলে কবিরা তো একধরনের মিথ্যাবাদী মানুষ; কিন্তু সুন্দর মানুষ।

মাসুদুজ্জামান : সুন্দর করে মিথ্যা বলে।

জাহিদ হায়দার : মাসুদ ঠিকই বলেছেন। কোরআনেও আছে, ‘উহারা উপত্যকায় উপত্যকায় ঘুরে বেড়ায়, উহাদের বিশ্বাস করিও না’। এখন যে বিষয়টি নিয়ে এখানে আলোচনা হচ্ছিল, একজন কবির কবিতা ভালো লাগা, মন্দ লাগা এগুলি একেবারে বলা হয় না। বলা হয় না- তা না; প্রশ্নটা হচ্ছে- কে বলে, কে বলে না। যেমন সত্যিকার অর্থে আমি বলি যে, ‘ভাই, এটা ভালো লেগেছে। এটা ভালো লাগেনি’। আমি ফোন করে বলি। যেমন ফরিদ বলছিলেন যে, বললে পরে মার খাওয়ার অথবা নিন্দাবাচক কথা শোনার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু আমাদের এখানে হয়েছে কী, রাজনৈতিক বলেন, অর্থনৈতিক বলেন, সামাজিক বলেন, আচরণগতভাবেই এইগুলি এস্টাবলিশড্ হয়ে গেছে। পরশ্রীকাতরতা যেমন একদিকে বেড়েছে, শিল্প-সাহিত্যের সহনীয়তাটা সেইভাবে বাড়েনি।

মাসুদুজ্জামান : শিল্প-সাহিত্যের সহনীয়তা বা সহিষ্ণুতার ব্যাপারটা কিন্তু প্রায় সবসময়ই দেখেছি একটা অসহিষ্ণু অবস্থা বিরাজ করছে। অন্তত আমার সাহিত্যচর্চার দিনগুলির অভিজ্ঞতা এরকমই। আমার মনে আছে, রফিক আজাদ, আবদুল মান্নান সৈয়দ, সিকদার আমিনুল হক…এমনও দেখেছি যে, দল বেঁধে শহীদ কাদরীর বিরুদ্ধে লেগেছেন—রফিক আজাদ পর্যন্তও ছিলেন। বাংলা একাডেমিতে দেখেছি। দলবদ্ধভাবে সবাই একদিকে আর শহীদ কাদরী একদিকে। শহীদ কাদরী তো এদিকে আসতেন না, মিশতেন খুব কম। তার ওখানে গেলে তিনি মিশতেন, কিন্তু সাধারণত বাংলা একাডেমিতে তেমন আসতেন না। দলবদ্ধভাবে মিশতেন না। কিন্তু ওঁর ওখানে কেউ গেলে আড্ডা জমে যেত। কিন্তু দলবদ্ধভাবে তাকে ডিস্টার্ব করার বা অস্বীকার করার প্রবণতা আমি নিজের চোখে দেখেছি। তার মানেটা কী? অসহিষ্ণুতাই। শহীদ ভাই হয়ত ভালো কবিতা লিখছিলেন, এতে অসহিষ্ণুতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু অসহিষ্ণুতা তো একধরনের ঈর্ষা। আমার যেটা মনে হয়েছে, এটা কাব্য-ঈর্ষা।

অরবিন্দ চক্রবর্তী : এখানে প্রকাশভঙ্গিটা কেমন ছিল?

মাসুদুজ্জামান : প্রকাশভঙ্গিটা? অনেক সময় হয়ত মুখোমুখি বলেছেন, কিন্তু মুখোমুখি বলে পারতেন না। বলতেন না। আড়ালে গিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিন্দা করেছেন কেউ কেউ এবং নিন্দা করে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। এটাতো সবসময় দেখে আসছি। আর এখন যেটা হয়েছে, কেউ কাউকে প্রশংসা করে না কারণ ছোট ছোট কিছু গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে—একজনকে কেন্দ্র করে কয়েকজন, এরকম আরেকজনকে কেন্দ্র করে আরো কয়েকজন। এর ফলে একটা গ্রুপের কেউ যদি মুখ খোলে অন্য গ্রুপের কারো সম্পর্কে, ‘অমুকের কবিতা ভালো হয়’, তাহলে তারা বলে, ‘ও, তুমি তাহলে আমাদের দলের না, তুমি যাও’। এই যে অসহিষ্ণুতা, এটা হচ্ছে কাব্যচর্চায় সততার অভাবে। ভালো হলে যে ভালো বলব, এই সততাটুকু নাই।

জাহিদ হায়দার : আমরা যদি আগেকার উদাহরণগুলো নিই – ৫০/৬০ দশকের পশ্চিম বাংলার উদাহরণগুলো নিই, এমনকি এখানকার উদাহরণগুলো, তাহলে দেখা যাবে কি, তারা বসে কিন্তু আড্ডা মারছে, কথা বলছে এবং লিখিতভাবে প্রতিবাদ করছে। যেমন আবু সায়ীদ আইয়ুবের প্রবন্ধের বইয়ের শঙ্খ ঘোষ যে প্রতিবাদটা করেছেন, সেটা তো লিখিতভাবে বলেছেন। আবার সুনীলের বইতেও তাই দেখা যাবে। আমাদের দেশে এই সারস্বত সমাজের এরকম কোনো ব্যাপারই কখনো গড়ে ওঠেনি। হ্যাঁ, রেক্সে কিংবা বিউটি বোর্ডিংয়ে কবিরা আড্ডা মারছে, তা মৌখিক। কিন্তু লিখিতভাবে যে শিল্পমানটা গড়ে তোলা উচিত সেটা হয়নি। নতুন কবিতা আন্দোলন করেছেন, এটা করেছেন, ওটা করেছেন, কিন্তু এই কাজগুলি কোনো-না-কোনোভাবে হয়নি। আর স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে একটা ব্যপার লক্ষণীয় – এই যে মাসুদ যেটা বলছিলেন যে, দলবদ্ধতা বা দল করা ‘আমার দল, আমার দল…’ এটা হচ্ছে কুপমণ্ডুক সোসাইটিতে এই লক্ষণগুলি হয় এবং তার জন্য যে শিক্ষার বিস্তার দরকার হয় সেটা…

ফরিদ কবির : কুপমণ্ডুক শব্দটা ধরে যদি বলি, তাহলে আপনি বলতে চাইছেন যে, লেখকদেরকেও আপনি মনে করছেন, তারা একধরনের কুপমণ্ডুক।

জাহিদ হায়দার : শব্দটা অনেকাংশে। মাথার মধ্যে এরা কুয়ো নিয়ে থাকে। আকাশ নিয়ে থাকে না। আমি বাস্তব উদাহরণ দিলে খুবই খারাপ হবে। আমি একজন কবিরও নাম বলব না এখন।

মাসুদুজ্জামান : আমার একটা জিনিস মনে হয়, সেটা হচ্ছে আত্মবিশ্বাসের অভাব। লেখক হিসেবে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই কারণেই কিন্তু তিনি কুপমণ্ডুক হয়ে পড়েন।

অরবিন্দ চক্রবর্তী : আমাদের তো অস্তিত্ব সংকটের ব্যপারটা আছে, কিন্তু এর বাইরে মনে হয় যে মৌখিক বিউটি বোর্ডিংয়ের যে আড্ডা, বাংলাবাজার, শাহাবাগ বা বিভিন্ন সময়ে কবিতা বিষয়ক যে আড্ডা – এখন কি সেই আড্ডাটা হয়? এখন আমার কাছে মনে হয় যে, জাস্ট চা খাওয়া, সবার অন্তর্জালের ভিতরে ঢুকে যাওয়া, বসে বসে আমি…

জাহিদ হায়দার : আমি আজিজ মার্কেটের উদাহরণ দিতে পারি। আজিজ মার্কেটে কখনো কখনো তরুণ কবিদের সাথে আমি আড্ডা মারি কিংবা কনকর্ডের নিচে, ওখানে। কবিতা বিষয়ক আড্ডা হয়, কিন্তু মজার ব্যাপার কী, যেমন আমার একটা অভ্যাস ছিল, আমি প্রতিবছর যখন দেশে থেকেছি তখন প্রত্যেক নতুন কবির প্রথম বই আমি কিনতাম। একবার দশটা কিনলাম। তারপর চারজন কবির – যেমন জাহানারা পারভীন আছেন একজন, আফরোজা সোমা আছেন একজন, আরেকটা…এদের বই কিনেছি আমি। পরে আমি এদের সাথে কথা বলেছি, জাহানারাকে আমি বলেছি – আপনার একটা কবিতাও কেন ছন্দে লেখা হয়নি? সে বলছে যে, জীবনে তো ছন্দ নাই। এটা তার একটা যুক্তি। আমি বলেছি যে, কেন ছন্দ থাকবে না? ছন্দ জানতে হবে, ব্যাকরণ জানতে হবে। এই তরুণ কবির সাথে কথা বলতে গিয়ে আমি এই কথাটি তাকে বললাম, তার উত্তরটা হচ্ছে এটা। তারপর আরেকজন, নভেরা হোসেন নামে একজন কবি আছেন, তারও বই কিনেছি। পরে যখন তার সঙ্গে পরিচয় হলো, তখন বললাম, আমি আপনার বই কিনেছি। সে অবাক হয়ে গেছে। আমি বললাম, আপনার বইটাতে মাত্রাবৃত্তের, স্বরবৃত্তের কিংবা শুদ্ধ অক্ষরবৃত্তের কোনো কবিতা নাই কেন? সমর সেনরা যেভাবে করে গেছেন, আপনারা যদি সেভাবে করতে চান, ব্যাপারটা সেরকমটি নাই। উনি বলেন, না, আমরা তো এভাবে ভাবি না। এখন কবিতার আড্ডা নিয়ে যে প্রসঙ্গ তুললেন, মাসুদ যেটি বললেন, গোষ্ঠীবদ্ধভাবে পাঁচজন মিলে একটি লিটল ম্যাগাজিন বের করে এবং পাঁচজন পাঁচজনের উপর লেখে – ‘অসাধারণ কবিতা’।

2

মাসুদুজ্জামান : এবং সেটা লিটল ম্যাগাজিন থেকে বেরিয়ে এখন ফেসবুকে চলে এসেছে।

জাহিদ হায়দার : এই যে ব্যাপার-স্যাপার, এতে হচ্ছে কি…আমাদের অতীতের কথা বলি। আপনার বাবা কিংবা দাদা – বাঁকানো একধরনের শিক ছিল তাতে চিঠি গোঁজা থাকত। এটা ছিল ডকুমেন্টেশন। ঐ চিঠি এরকম ধাপে ধাপে থাকত এবং পারসোনাল চিঠিগুলো আলাদাভাবে থাকত। এটা হচ্ছে ডকুমেন্টেশন। আমাদের এখানে এই যে আমাদের শিল্প-সাহিত্যের ডকুমেন্টেশন। এটা খুঁজতে গেলে আপনার সমস্যা হবে। এটা হয়নি। রবীন্দ্রনাথের একটা চিঠি এত বছর পরে দুপচাচিয়া স্কুল থেকে নেয়া হচ্ছে, চিন্তা করেন। আর আমরা এই যে কথা বলে যাচ্ছি…বিখ্যাত লাইন আছে অশোক মিত্রের ‘কবিতা থেকে মিছিলে’ বইয়ের প্রথম প্রবন্ধটা – ‘অনেক কবিতা লিখে চলে যায় যুবকের দল’। তাই না? এখন অনেক কবিতা লিখে চলে যাচ্ছে যুবকের দল। একটা ফাঁক আছে। আসলেই কী কবিতা লিখে চলে যাচ্ছে? এখন গোষ্ঠীবদ্ধতা কৌমসমাজ থেকে আসা কৈবর্ত থেকে আসা একটি সমাজ, এই সমাজটা। আমি এভাবে বুঝতে চাই আর-কি। কৌমসমাজ থেকে আসা কৈবর্ত, মাছ এবং কৃষিকাজ – এই তো। এখান থেকে এসে সারস্বত সমাজের একটি…মনে করেন আমরা এখানে সবাই সরস্বত সমাজ…আমরা বোদলেয়ারের নাম বলতে পারি, কীটস্, ইয়েটস্, রবীন্দ্রনাথ, শামসুর রাহমান অনেকের নাম বলতে পারি, অধ্যাপক…অনেক কিছু বলতে পারি। কিন্তু আমাদের সেই সারস্বত সমাজটি সেই অর্থে এখনো গড়ে ওঠেনি। আমি আরো উদাহরণ দিচ্ছি। বুদ্ধদেব বসুর সারস্বত সমাজ। ওখানে আড্ডা মারছেন যারা সেই আড্ডার তথ্যগুলো কিন্তু আমরা পড়ছি, তার মানে – সাম হাও ইট ওয়াজ নোটেড। খেয়াল করবেন। রবীন্দ্রনাথের কাছে যখন বিষ্ণু দে’র উর্বশী ও আর্টিমিস দেয়া হয়েছে, বুদ্ধদেব বসু সব পেয়েছির দেশ-এর ভিতর লিখছেন – রবীন্দ্রনাথ বলছেন যে, তোমার কবিতা বুঝিয়ে দিতে পারলে শিরোপা দেব। খেয়াল করবেন কিন্তু। এটা ডকুমেন্ট হচ্ছে, রবীন্দ্রনাথ বলছেন। সব পেয়েছির দেশ বইতে বুদ্ধদেব বসুও পরে বলেছেন, উর্বশী ও আর্টিমিস-এর একটা স্তবক থেকে আরেকটা স্তবক কেন আসছে, সেটা তিনি লিখিতভাবে বলেছেন। আর আমাদের এখানে যে পরচর্চাগুলো হচ্ছে…

মাসুদুজ্জামান : আসলে লিখিত চর্চা হচ্ছে না। লিখিত চর্চা হলে কিন্তু পরচর্চা থাকে না।

অরবিন্দ চক্রবর্তী : একটা পর্যায়ে গিয়ে কিন্তু থেমে যেতে হবে।

মাসুদুজ্জামান : সেখানে কিন্তু যুক্তি থাকতে হবে। সেখানে তো বলতে গেলে ভেবে-চিন্তে বলতে হবে। নিন্দা করলেও সেই নিন্দাটা যুক্তিযুক্ত হতে হবে। এই সুযোগটা কিন্তু আমি মনে করি এইসব ছোট ছোট আড্ডায় হয় না। আমি অরবিন্দকে সমর্থন করছি, তার কারণ, এই আড্ডাগুলোতে আসলে পরচর্চাই হয়। এরকম হয় ব্যাপারটা, একজন আরেকজনকে বলে –

‘তুমি কেমন আছো?’

‘আমি ভালো আছি।’

‘আজ কী বই বেরোলো?’

‘অমুক বই বেরোলো’।

এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এর বাইরে যে গভীর আলোচনা – একটা টেবিলে বসলে যে আবহটা তৈরি হয়, যেমন আমরা এখানে যেভাবে বসেছি, কথা বলছি। সেই আবহ তো তৈরি হয় না ওখানে। কিন্তু একটা রেস্তোরাঁতে হয়। তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে যে, শরীফ মিয়ার ক্যান্টিনে কিভাবে আড্ডাটা জমতো। কারণ একটা অথবা দু-তিনটা টেবিলকে ঘিরে কবিরা আড্ডা দিতেন। কবিতার আড্ডা হতো, কখনো কখনো খিস্তিখেউড়ও হতো। এগুলো বাদ দিলেও কিছু কিছু ভালো কথা কিন্তু আমরা শুনতে পেতাম বা জানতে পারতাম। কিন্তু এখন তো তা হয় না। যেমন ট্রেসপাসের জন্য আড্ডা হচ্ছে, তুই বাসায় যাবি? একটুখানি আজিজ মার্কেটে নেমে যা, একটু আড্ডা দিয়ে যাই। সেখানে কিন্তু তুই একটা ফ্রুটফুল আড্ডা দেয়ার মেজাজে আড্ডা দিচ্ছিস না।

[চলবে…]

শ্রুতিলিখন : আরিফ শামসুল

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ

Comment(1)

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hijal
Close