Home English Section Four Poems by Nasima Sultana > Translation: Nahid Kaiser >> Teerandaz English

Four Poems by Nasima Sultana > Translation: Nahid Kaiser >> Teerandaz English

প্রকাশঃ March 5, 2018

Four Poems by Nasima Sultana > Translation: Nahid Kaiser >> Teerandaz English

Four Poems by Nasima Sultana >> Translation: Nahid Kaiser

মূল বাংলা কবিতাসহ নাসিমা সুলতানার চারটি কবিতার ইংরেজি অনুবাদ 

Born in 1957 in Kushtia, Nasima Sultana grew up and received education in the town. She studied Bengali Language and literature at Rajshahi University. After completion of her MA she started her career as a journalist with the Masik Ganaswasthya. Later, she became a research assistant to the editor of the Weekly Holiday in Dhaka. Since 1987 she worked as an editorial assistant for the Dainik Janata and wrote for different magazines. She was married to another journalist Ahsanul Hakim Tutul. She fell seriously ill and died of cancer in Dhaka on 17 November 1997. She is regarded as one of the most striking younger poets of Bangladesh.


Nasima Sultana : Four Poems


Let there be Rage : কিছু ক্রোধ হোক : Kichu Krodh Hok


Let rage come over us for our lost glory
Let some apocalypse come down/take place
Each morning makes me suicidal
Each evening is lost among primitive masks, wigs and bel flower
Let it not be happen
Life is not meant to be wasted over love-less love-makings!
Let wrath absorb us, terrible envy should shake the surroundings
Only that can make the mob run
Towards the moon-washed fields
They will tear all the pessimistic words apart/into pieces
Then golden harvest will fill up their heart
Poush navannya, the smell of hilsa, the freshness of kamranga will
Hold the souls above…along with the handful of jesmin-white rice
Let anger overpower us for our lost throne
Come under the scorching sun-unveiled
Pray ” Invigorate our soul oh Ultimate Powerful
Let agon envelop us.


Che’s Timeless Robe : চে’র মৃত্যুহীন জামা : Che-r Mrittyuhin Jama


I would love to inherit Che’s timeless robe
Following the bluish traces of dried-up blood
I will penetrate the barren jungle of Boliviya’s memory.
Cannot see your face due to darkness Father!
You’re sitting like a leafless tree moving with the fragile air
Never joined the sweat-wet history of the mesmeric mob
You did not become aggressive uproot the false truth
The rotten, make-belief, the fake truth
Your angry wrinkles meekly mingles
Mis-matched to the massive mob
I declare to disown that mildness of my Father
I deny inheriting the old, time-worn, boneless
Your face is invisible in immense darkness Father!
Sitting like a defeated warrior you look feeble & fickle
Unknown of the fiery language of the protesting procession
You free the swans in unworthy water, saying-
“God bless thee”, with a Catholic grandeur.
All you earned for your youth is a set of gold-buttons, a woman
And a fountain pen—
A well woven waning web surrounded you
A shameless sloth sat heavily on your eyes
Do you mean me inherit your gold-button and fountain pen ?
I have kissed a stainless ballam
I have taken oath not to let the sharks usurp the land
Nor will the vultures be allowed to fly overhead
Only the memories of the barren Bolivia’s blood-soaked soil
Can save another Mahenjodaro from its doom
To the gold-button and fountain pen-
I prefer to inherit Che’s timeless robe.


Yasin Ali and a dark land : অন্ধকার দেশ ও ইয়াসিন আলী : Ondhokar desh o Yasin Ali
Nobody saw your face in processions Yasin Ali
No boxed-hand, determined jaw and powerful chin
Nor was seen your blood-drenched, clay-covered bare foot
Treading in a queue of cacophonous citizens
Nor in any dumb-funeral walk
Or in a secret meeting!
Processions go zigzag like a serpentine rail-line
They go long-long way, leaving
Footsteps on dust and slogan in the air
You never uttered those rebellious chants
Those words did not penetrate your within
Yet, Yasin Ali, you are the unique name behind the procession
The serpentine rail-line like procession
With heady hands, confident jaws, and charismatic chins
The blood-bathed, clay-coloured barefoot, pull Yasin Ali
Towards sound and signs. And push him
To the rising sun
Thus you man from a dark land
Reach the Un to the UN
Knock the conscience of the first world
Raise fund for the deprived
With a handful of rice and a quilt you pass ages


When I am in love : যদি ভালোবাসি : Jodi Bhalobashi 


When in love, I want the whole
Not the part.
It has to be innate within you
The plants come out of nature
What harm can there be in it ?
Why should love be limited?
Love demands the vastness of the sky
Deep ocean, long beaches
It involves all the senses
The body. Like an art
It can sketch a kiss, a complete consummation of love
The lovers can sip into each other’s soul
If I ever love, I’ll ask for the whole
Never the part.


Original Bengali text of the above poems of Nasima Sultana


নাসিমা সুলতান >> চারটি কবিতা


কিছু ক্রোধ হোক : Let there be Rage 


একদিন ময়ূর সিংহাসন আমাদের ছিল ভেবে কিছু ক্রোধ হোক এইবার
একটা মারাত্মক কিছু ঘটুক এইবার।
একদিন আত্মহত্যা এসে টোকা দেবে দরোজায় এমন হয় না
প্রতিদিন প্রাচীন মুখোশ, পরচুলা আর বেল ফুল নিয়ে কেটে যাবে গন্ধময় বিকেল
– এমন হয় না
প্রতিদিন নষ্ট সহবাসে ব্যর্থ হবে জীবন এমন হয় না হয় না!

কিছু ক্রোধ হোক এইবার, ভয়ঙ্কর ঈর্ষায় কাঁপুক ঘরবাড়ি
তারপর ঠিক ঠিক জ্যোৎস্নাপ্লাবিত মাঠে বুনো জন্তুর মতো
নেমে আসবে দলে দলে
মানুষের পাল
হিংস্র নখরে তারা ফালি ফালি করে ছিঁড়ে দেবে ব্যর্থতা বিষয়ক শব্দগুলি
আর এইভাবে তাদের বুকের কাছে ধীরে ধীরে জেগে উঠবে সোনামুখী ধান
পৌষ-নবান্ন, ইলিশ মাছের ঘ্রাণ, কামরাঙা সুখ
জেগে উঠবে শীতল পাটতে বসে জুঁই ফুলের মতো সুগন্ধী অন্নের মুঠি।

একদিন ময়ূর সিংহাসন আমাদের ছিল ভেবে কিছু ক্রোধ হোক এইবার
একদিন গনগনে সূর্য়ের নিচে পোশাক-আশাক ছুঁড়ে দিয়ে
বলুক সবাই আমাদের আত্মা বদলে দাও প্রভু
আমাদের কিছু ক্রোধ দাও।


চে-র মৃত্যুহীন জামা : Che’s Timeless Robe 
আমাকে উত্তরাধিকার দেবে চে-র মৃত্যুহীন জামা
শুকনো রক্তের জমাট নীলচে দাগ ধরে ধরে
যাবো বলিভিয়ার স্মৃতিসিক্ত ঊষর জঙ্গলে;
অন্ধকারে তোমার মুখ দেখি না আমি বাবা
টলমলে হাওয়ার আঙুলে ভর করে বসে আছো নিষ্পত্র বৃক্ষের মতো।
মারমুখী মানুষের ঘর্মাক্ত ইতিহাসে দিলে না কখনো যোদ্ধার মেধা
পচে গলে ফেঁপে ওঠা যে বিশ্বাসের গায়ে গজালো শেকড়
কঠিন চঞ্চুতে ঠুকরে দিলে না তাকে
শুধু এক বলিরেখাঙ্কিত ক্রোধ ধূলি ধূসরিত প্রাঙ্গনে
নেড়েছে তার পরাঙ্মুখ, বিপন্ন ডানা-
আমি নেবো না ওই কোমলমতি পাখির পালকে নিঃসঙ্গ মুকুট
ঘুণে ধরা জল্লাদের খাট, লকলকে মারী, হারগিলে সন্তান।
অন্ধকারে তোমার মুখ দেখি না আমি বাবা
তালিমারা ফুসফুস নিয়ে বসে আছো জবুথবু, পরাস্ত মানুষ
মিছিলের ভাষা তুমি বোঝনি কখনো
ঘোলা জলে একে একে ছেড়েছো রাজহাঁস
‘প্রভু শান্তি হোক’ বলে ক্যাথলিক মহিমায় মুখর হয়েছো
যৌবন তোমাকে দিয়েছে এক সেট সোনার বোতাম, একজন মহিলা
ও ফাউন্টেন পেন-
সূক্ষ্ণ তন্তুতে বোনা গাঢ় ঘুমজাল
তোমার চোখের পাতায় এঁকেছে নিরন্নের লজ্জা
আামকে মুষ্ঠি-ভিক্ষা দেবে এক সেট সোনার বোতাম, ফাউন্টেন পেন?
আমি চুমু খেয়েছি এক আশ্চর্য় অমলিন বল্লমে-
দেখতে দেখতে এই রুক্ষ ডাঙার দখল নিয়ে নেবে জলের প্রাণীরা
মাথার ওপর উড়বে শকুন
তখন সেই অনাবৃত শনির দিনে স্মৃতিসিক্ত ঊষর বোলিভিয়ার
শুকনো রক্তের জমাট নীলচে দাগ
বাঁচিয়ে দেবে আরও একটি মহেঞ্জোদারোর আসন্ন পতন

এক সেট সোনার বোতাম আর ফাউন্টেন পেনের বদলে
আমি তাই উত্তরাধিকার সূত্রে নেবো চে-র মৃত্যুহীন জামা।

অন্ধকার দেশ ও ইয়াসিন আলি : Yasin Ali and a dark land


মিছিলে তোমার মুখ কখনও দেখিনি ইয়াসিন আলি
মুষ্ঠিবদ্ধ হাত শক্ত চোয়াল আর কঠিন থুতনি-
রক্তাক্ত কর্দমাক্ত নগ্ন পায়ে তুমি কখনও
শরিক হওনি বিক্ষুব্ধ নাগরিকের সারিতে
মৌন শোভাযাত্রায়
গোপন বৈঠকে
সর্পিল রেললাইনের মতো একটি মিছিল এঁকেবেঁকে চলে যায়
চলে যেতে যেতে চলে যায় বহু দূরে
তাদের পদচিহ্ন রেখে যায় শুধু কয়টি শব্দ আর ধ্বনি
যে শব্দগুলি তুমি উচ্চারণ করোনি কখনও
যে ধ্বনি তোমার শ্রবণে জাগায়নি অশ্বক্ষুর, হ্রেষার আকুতি
ইয়াসিন আলি! তবু তুমি মিছিলের পুরোভাগে
স্বতন্ত্র এক নাম,
সর্পিল রেললাইনের মতো মিছিলেরা
মুষ্ঠিবদ্ধ হাত শক্ত চোয়াল কঠিন থুতনি
রক্তাক্ত কর্দমাক্ত নগ্ন পা ইয়াসিন আলিকে শব্দ আর ধ্বনির উজানে
ঠেলে নিয়ে যায়
সূর্য়োদয়ের দিকে…
এইভাবে তুমি পৌঁছে যাও অন্ধকার দেশের মানুষ
জাতিসংঘ থেকে জাতিসংঘে
উন্নত বিশ্বের বিকেকে…
তোমার জন্য তৈরি হয় দরিদ্র তহবিল-
একমুঠো চাল আর একটি কম্বল নিয়ে কাটিয়ে দাও তুমি
শতাব্দীর পর শতাব্দী
মিছিলে না-থেকেও তুমি মিছিলেরই লোক ইয়াসিন আলি
সম্পন্ন শস্যের ভাঁড়ার, সূতীক্ষ্ণ লাঙল আর দুর্দান্ত মহিষ
কখনও পাবে না যদিও, পেয়েছো আলোকিত পৃথিবীর অন্তর।


যদি ভালোবাসি : When I am in love


যদি ভালোবাসি, ভালোবেসে চাই তবে সবটুকু চাই
সামান্য চাইবো না।
ভেতর থেকে ওঠা কোন জল-মাটি, গাছ ও পাথর
ফুটে উঠুক সম্পন্ন প্রকৃতির মতো
আমি তো কোনও দোষ দেখি না এতে;
এত স্বল্প পরিসরে ভালোবাসা হয়?
ভালোবাসার জন্যে চাই বিশাল আকাশ উন্মুক্ত প্রান্তর
গভীর জলাশয় দীর্ঘ বেলাভূমি
ভালোবাসার জন্য চাই চক্ষু কর্ণ ওষ্ঠ নাসিকা ত্বক
আপাদমস্তক সমস্ত শরীর, ভালোবাসা একটি শিল্পের মতন
ভালোবাসা দিয়ে একটি চুমু আঁকা যায়
আঁকা যায় আলিঙ্গন আশ্লেষ সঙ্গম ও শীৎকার
ভালোবাসা দিয়ে পান করা যায় সুন্দর মুখ, পবিত্র আত্মা
যদি ভালোবাসি, ভালোবেসে চাই তবে সবটুকু চাই
সামান্য চাইবো না।




ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন

লেখাগুলো সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করুনঃ


Your email address will not be published. Required fields are marked *